রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার এক ফোনালাপে তারা এই আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা এমন একটি সমঝোতাভিত্তিক শান্তিচুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন, যা অঞ্চলের সব দেশের “বৈধ স্বার্থ” বিবেচনায় নেবে।
প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যা পরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কোটি মানুষের জীবনে পড়েছে।
ক্রেমলিন সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়।
ফোনালাপে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন ভ্লাদিমির পুতিন ও রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এ সময় রাশিয়া অভিযোগ করে, ইউক্রেন রাশিয়া ও তুরস্ককে সংযুক্ত করা গ্যাস পরিবহন অবকাঠামোতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনের একটি অংশে ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং সার্বিয়াসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্যাস পেয়ে থাকে।
রাশিয়া একাধিকবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলার অভিযোগ তুলেছে, সর্বশেষ মার্চ মাসে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে, যাতে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।
২০২২ সালে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

