মাদক দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ত্রাণমন্ত্রীর

মাদক দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ত্রাণমন্ত্রীর

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। এর লক্ষ্য বাংলাদেশকে দুর্বল করা এবং দেশের মানুষকে মাদকাসক্ত করে তোলা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে ফেনসিডিল ও বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। মাদক দমনে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন, খেলাধুলার সামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকের কারণে বিভিন্ন বয়সী শিশুরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অনেককেই নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি একটি নিরাময় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থার উন্নতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

দুলু বলেন, সমাজকে সুন্দর করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, জুয়া ও বাল্যবিয়ে নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোকিত লালমনিরহাট কমিটি গঠনের পর গত এক মাসে এ এলাকায় একটি বাল্যবিয়েও হয়নি। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

তিনি বলেন, গতকাল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় সভা করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া এবং অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত বয়সের আগে বিয়ে দিলে মেয়েরা সংসারজীবনের দায়িত্ব যথাযথভাবে বুঝতে পারে না। এতে পারিবারিক কলহ ও বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে দিতে হবে। সরকার শিক্ষার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এতে মেয়েরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকেরাও সম্মানিত হবেন।

অনুষ্ঠানে বেকার নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া অসহায় ও ছিন্নমূল চার শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, হলুদ ও মরিচের গুঁড়াসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০টি ফুটবল তুলে দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিনসহ বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন