ইসরাইলের মদদে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স

ইসরাইলের মদদে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা এবং তাদের জমি দখলের ঘটনাকে ইসরাইলি সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফ্রান্স। রোববার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থি ইসরাইলিদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্স ইন্টার রেডিও ও ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তার প্রতি ইসরাইলি সরকারের মনোভাব অপরাধমূলক ও লজ্জাজনক পর্যায়ের প্রশ্রয়পূর্ণ।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দেওয়া বক্তব্যের পর বারোর মন্তব্য এলো। ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, পশ্চিম তীরে প্রতিদিনই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং এগুলো কার নামে করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস পশ্চিম তীরে কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে এটিকে ‘অহংকারী অযৌক্তিকতা’ বলে আখ্যা দেয়। বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, হামাসের সদস্যরা পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বারো অবশ্য ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের বক্তব্য স্পষ্ট—ইসরাইল সরকারের নীতি গাজা কিংবা পশ্চিম তীর, কোথাও হামাসকে দুর্বল করছে না।’

পশ্চিম তীরে হামাসের কার্যক্রম আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বারো সরাসরি 'হ্যাঁ' বা 'না'—কোনোটিই বলেননি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে ফ্রান্সের অবস্থান ইসরাইলি সরকারের চেয়ে ভিন্ন। তিনি যুক্তি দেন যে, হামাসকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার দোহাই দিয়ে পশ্চিম তীরের ঘটনাপ্রবাহের প্রতি যে প্রশ্রয়মূলক নীতি নেওয়া হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করা যায় না।

বারো আরও বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৈরী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে অপপ্রচার, সাইবার অভিযান এবং অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার কোনো ড্রোন দিয়ে ফ্রান্সের বিমানবন্দর বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি যোগ করেন যে, ফ্রান্স দীর্ঘ সময় ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন