যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার চীন সফরের সময় তিনি বলেন, চীনের কাছে দেওয়ার মতো ‘বিরাট সক্ষমতা’ রয়েছে যুক্তরাজ্যের।
আট বছর পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে গেলেন। স্টারমারের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন হয়ে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক নেতা বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্স, কানাডা ও ফিনল্যান্ডের নেতারাও চীন সফর করেছেন। গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত এবং ন্যাটো মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তাদের আরও সতর্ক করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ব্রিটেনের জন্য চীনের সঙ্গে লেনদেন করা “খুবই বিপজ্জনক”। তবে স্টারমার শুক্রবার এসব মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ট্রাম্প নিজেও চীন সফরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য খুব ঘনিষ্ঠ মিত্র। সে কারণেই আমরা এই সফরের আগে তার দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যের জন্য চোখ বন্ধ করে বসে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।”
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “চীন পারস্পরিক লাভ ও জয়-জয় সহযোগিতার চেতনায় সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।”
স্টারমার বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষই সম্পর্কোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
শুক্রবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য-চীন ব্যবসা ফোরামে স্টারমার বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ছিল ‘উষ্ণ’ এবং ‘বাস্তব অগ্রগতি’ হয়েছে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।”
বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের কম সময়ের চীন ভ্রমণে ভিসামুক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানায়। তবে কবে থেকে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে যথাসময়ে বিষয়টি প্রকাশ করা হবে।
স্টারমার জানান, ২০২১ সাল থেকে মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচনার কারণে যেসব ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার ওপর চীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি আমাকে বলেছেন, এর অর্থ, সব ব্রিটিশ সংসদ সদস্য এখন চীনে স্বাগত।”
বেইজিং সফর শেষে স্টারমার সাংহাইয়ে যান। সেখানে তিনি সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব ফ্যাশন অ্যান্ড ইনোভেশনে চীনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, যা চীনের দংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ।
চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে মানব পাচারকারীদের সরবরাহ নেটওয়ার্ক মোকাবিলায় সহযোগিতা, ব্রিটিশ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাত ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কমিশন শক্তিশালীকরণ। এছাড়া ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর চীনের শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
স্টারমারের দপ্তর জানিয়েছে, এই সফরে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো প্রায় ২.২ বিলিয়ন পাউন্ডের রপ্তানি চুক্তি করেছে এবং আগামী পাঁচ বছরে আরও ২.৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বাজারসুবিধা পাবে। পাশাপাশি শত শত মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগও আসবে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা