ইতালির ঐতিহ্যবাহী রেডেন্টোর (রিডিমার) উৎসব চলাকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিলম্যান ফার্টিটার ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মেগা ইয়ট ‘বোর্ডওয়াক’-এর আগমনকে কেন্দ্র করে ভেনিসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর সিএনএনের।
বিক্ষোভকারীরা ‘ভেনিস বিক্রির জন্য নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন এবং রাষ্ট্রদূতের ইয়টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে ইনফ্ল্যাটেবল খেলনা ছুড়ে মারেন এবং মেগাফোনে মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
টিলম্যান ফার্টিটা, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দাতা হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে ব্যক্তিগত মেগা ইয়টে ইতালির বিভিন্ন উপকূলীয় শহর সফর করছেন। তিনি এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘উপকূলীয় কূটনীতি’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ভেনিসের অনেক বাসিন্দা এই সফরের বিরোধিতা করছেন। তাদের অভিযোগ, শহরটি ধীরে ধীরে ধনকুবের ও বিলিয়নিয়ারদের বিলাসবহুল গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের আবাসন, জনসেবা ও জীবনযাত্রার মান অবহেলিত হচ্ছে।
বিক্ষোভকারী ইমানুয়েল লেপোরে রয়টার্সকে বলেন, আমাদের মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে যে ভেনিস বিক্রির জন্য নয়। শহরটি ধীরে ধীরে বিলিয়নিয়ারদের সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে।
ক্ষোভ আরও বাড়ে যখন ১১৭ মিটার দীর্ঘ ‘বোর্ডওয়াক’ ইয়টটি এমন স্থানে নোঙর করে, যেখান থেকে সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারা রেডেন্টোর উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি উপভোগ করেন। বিশাল ইয়টটি সেই দৃশ্য আড়াল করে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
ভেনিসের সিজিআইএল শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক ড্যানিয়েল জিওর্দানো এই ঘটনাকে শহরের জন্য “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, উৎসবের সময় এমন একটি বিলাসবহুল ইয়টের উপস্থিতি পরিবেশগত ও সামাজিক টেকসইতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রাষ্ট্রদূতের ‘উপকূলীয় কূটনীতি’ কর্মসূচি সফলভাবেই এগিয়ে চলছে।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক ফার্টিটা জানিয়েছেন, ইয়ট সফরের সব ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। তবে তার নিরাপত্তায় ইতালীয় করদাতাদের কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার সফরসূচি অনুযায়ী, লেবার ডে পর্যন্ত ইতালির ১৩টি বন্দরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


