ইউক্রেনের ড্রোনের গতি কমানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থাকতে পারে: ইলন মাস্ক

ইউক্রেনের ড্রোনের গতি কমানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থাকতে পারে: ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক। ছবি: বিবিসি

ইউক্রেনের ড্রোনের গতি সীমিত করার ঘটনায় মার্কিন সরকারের ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক নেটওয়ার্কে গতিসীমা আরোপের পর ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা ড্রোন ও অস্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে বিঘ্ন ঘটে। তবে এই বিধিনিষেধ আরোপে মার্কিন সরকার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি মাস্ক।

বিজ্ঞাপন

মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, স্টারলিংকের সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি সেবা স্টারশিল্ডের মালিক ও নিয়ন্ত্রক মার্কিন সরকার। এ সেবার গতি ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের।

ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বুধবার সন্ধ্যায় জানান, স্টারলিংক সংযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে ড্রোনের গতিসীমা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি মাস্ককে ধন্যবাদ জানান এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

মাস্কের বক্তব্য, স্টারলিংক মূলত বেসামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি। আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে এ বাণিজ্যিক সেবা ব্যবহার করা উচিত নয়। এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি আশা করেন, সংযোগ সীমিত করার বিষয়টি কোনো ভুল বা কারিগরি সমস্যার ফল। তিনি দ্রুত সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্টারলিংক বেসামরিক গ্রাহকদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেয়। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড মার্কিন সরকারের জন্য তৈরি সামরিক ও সরকারি ব্যবহারের সেবা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ বুধবার টেলিগ্রামে লিখেছেন, ড্রোনের গতি সীমিত করার ঘটনা কাকতালীয় নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির যোগ রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার এ দাবি অস্বীকার করেন।

বুধবার লন্ডন সফরে গিয়ে জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকর্মী পিয়ার্স মরগানকে বলেন, রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি হয়েছিল। তবে বিষয়টি কেবল অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আরও জটিল দিক রয়েছে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভে কয়েকজন নিহত হন। সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। জেলেনস্কি একে রাশিয়ার অন্যতম বড় হামলা বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য, ইউক্রেন অনেক ড্রোন ভূপাতিত করলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। দেশজুড়ে অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রোন আঘাত হানার আগে তাঁরা কোনো সতর্কবার্তা পাননি।

যুক্তরাজ্য সফরে জেলেনস্কি দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটে তাকে আলিঙ্গন করে স্বাগত জানান। পরে জেলেনস্কি রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও দেখা করেন। এর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, ইউক্রেনে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের গতি বাড়ানো হবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয়।

বার্নহাম জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, আর এ অবস্থানের পরিবর্তন হবে না।’

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন