লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননিদর্শন

লেবাননে সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য, মিলছে হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননিদর্শন

যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও লেবাননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান মিলছে। রোমান মন্দির থেকে শুরু করে প্রাচীন জলপাই তেল তৈরির স্থাপনা—এসব আবিষ্কার দেশটির হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসের নতুন তথ্য সামনে আনছে। তবে ইসরাইল-হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খননকাজ বন্ধ রয়েছে।

সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর একটি হয়েছে বৈরুতের দক্ষিণ-পূর্বে পাহাড়ি এলাকা মাআসের আল-শুফে। সেখানে একটি প্রাচীন রোমান মন্দিরের স্তম্ভ ও ভিত্তির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরকে ঘিরে সে সময় একটি বড় স্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

লেবাননের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা মিরিয়াম জিয়াদ জানান, পরবর্তী সময়ে মন্দিরটির স্থানে ১২ থেকে ১৩ শতকের মধ্যে ক্রুসেডাররা একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিল। ফলে একই স্থানে রোমান যুগ ও মধ্যযুগের ইতিহাসের নিদর্শন পাওয়া গেছে।

স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে পাহাড়ের ওপর বড় বড় পাথরের ব্লকের সন্ধান পায়। পাঁচ বছর পর একটি ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের দল সেখানে খনন শুরু করে। খননকাজে বিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা শিগগিরই সেখানে আবার খননকাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বালবেক শহরেও রয়েছে দেশটির অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নস্থল। সেখানে পাহাড়ি সীমান্তের কাছে রোমান যুগের বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত রয়েছে। এটি লেবাননের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

লেবাননে ফিনিশীয়, পারস্য, রোমান ও বাইজেন্টাইন যুগের পাশাপাশি ক্রুসেড, আরব ও ইসলামি সাম্রাজ্যের সময়কার অসংখ্য প্রত্ননিদর্শন রয়েছে। এসব আবিষ্কার দেশটির দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে চলমান সংঘাত দেশটির প্রত্নসম্পদ রক্ষায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্নস্থলগুলোতে যুদ্ধের কারণে খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন