নেদারল্যান্ডসে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক ২৪

নেদারল্যান্ডসে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক ২৪

নেদারল্যান্ডসের হেগে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতির বিরুদ্ধে ডানপন্থি বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে। শনিবার শহরের কেন্দ্রীয় মালিভেল্ড এলাকায় কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কুকুর ও জলকামান ব্যবহার করে। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

‘উই আর দ্য পিপল’ নামে একটি গোষ্ঠী বিক্ষোভের আয়োজন করে। অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সরকারের নীতির প্রতিবাদ জানাতে তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মিছিল নিষিদ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, কিছু বিক্ষোভকারী মুখ ঢেকে রেখেছিলেন এবং পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করেন। পরে তাদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি, ধোঁয়ার বোমা ও অন্যান্য বস্তু ছুড়তে শুরু করে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী রাস্তার খুঁটি তুলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মালিভেল্ড এলাকা খালি করার উদ্যোগ নেয়। পুলিশ সদস্যরা লাঠি ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করেন। পরে জলকামান ও ঘোড়সওয়ার পুলিশও মোতায়েন করা হয়। কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। দুপুরের পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নেদারল্যান্ডসের বিচারমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল ঘটনাটির নিন্দা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, আতশবাজি নিক্ষেপ, ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগান এবং নাৎসি স্যালুট দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

দ্য হেগের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকায় বিক্ষোভ শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের কিছু এলাকায় জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এক বছর আগে একই এলাকায় ডানপন্থী একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও বড় ধরনের সহিংসতা হয়েছিল। সে সময় একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং ডাচ রাজনৈতিক দল ডি৬৬-এর কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। এবারের বিক্ষোভ সেই ঘটনার এক বছর পূর্তির সময় অনুষ্ঠিত হলো।

এবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন অভিবাসন কমানোর দাবি জানান। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ব্যাপক অভিবাসনের কারণে তারা নিজেদের দেশ হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন। তবে সহিংসতার কারণে পরিকল্পিত মিছিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।

নেদারল্যান্ডসে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র হয়েছে। হেগের এবারের ঘটনাও সেই বিতর্কের মধ্যে নতুন করে জনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বিক্ষোভের সীমা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ডাচ নিউজ, এপি নিউজ, ইউরো নিউজ ও ইউএ নিউজ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন