কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ওসি মো. আবদুর রহিম সরকারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। বর্তমানে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পরপরই উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত এক ভূরিভোজে সেনবাগ থানার ওসি মো. আবদুর রহিম সরকারের অংশ নেওয়ার একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন রোববার দুপুর ১টার দিকে জানান, সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল সমর্থিত এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে ওসির দাওয়াত গ্রহণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে সেনবাগ থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের আলোকে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ওসির দায়িত্বে থাকা সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ওসি সাহেব প্রত্যাহারের আদেশ পেয়ে পুলিশ লাইন্সে চলে গেছেন। কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

