রাজ্য নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও পদ ছাড়ছেন না জার্মানির চ্যান্সেলর

রাজ্য নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও পদ ছাড়ছেন না জার্মানির চ্যান্সেলর

জার্মানির দুটি রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)। তবে নির্বাচনি বিপর্যয়ের পরও পদ ছাড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মের্জ। তিনি বলেছেন, চার বছরের জন্য নির্বাচিত সরকার মেয়াদ পূর্ণ করার লক্ষ্যেই কাজ করবে।

২০ সেপ্টেম্বর জার্মানির রাজধানী বার্লিন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে সিডিইউ মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ফলে রাজ্য পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ সীমার নিচে চলে গেছে দলটি। এটি রাজ্যটিতে সিডিইউর ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে খারাপ ফল।

বিজ্ঞাপন

এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। এর ফলে দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয়ের পর আবারও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে অভিবাসনবিরোধী এএফডি।

অন্যদিকে বার্লিনে বামপন্থী দল ডি লিংকে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। সিডিইউ সেখানে প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। বার্লিনেও এএফডি দুই অঙ্কের ভোট পেয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে।

দুটি নির্বাচনের ফলাফল মের্জের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। চলতি বছর স্যাক্সনি-আনহাল্টসহ বিভিন্ন নির্বাচনে সিডিইউর দুর্বল ফলাফল এবং এএফডির উত্থানের পর মের্জের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সর্বশেষ ফলাফলের পর মের্জ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি পদ ছাড়বেন না।

নির্বাচনের পর মের্জ বলেন, তার সরকার চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে এবং তিনিও চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এই সময়কে দেশের কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার কাজে ব্যবহার করতে চান। অর্থনীতি, করব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন এবং আমলাতন্ত্রে পরিবর্তনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জার্মানির অর্থনীতিও মের্জ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প খাতে মন্দা, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং গাড়ি শিল্পে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উদ্বেগ, অপরাধ নিয়ে ভয় এবং মের্ৎস সরকারের ইউক্রেননীতির বিরোধিতাও ভূমিকা রাখছে। সীমান্তে নতুন অভিবাসন কমে গেলেও এএফডির ভোট কমেনি।

সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনগুলোর ফলাফল জার্মানির মূলধারার দলগুলোর জন্যও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এতদিন এএফডির সঙ্গে সরকার গঠন বা আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সহযোগিতা না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে। জার্মান রাজনীতিতে এই নীতিকে ‘ফায়ারওয়াল’ বলা হয়।

দুই রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির শক্ত অবস্থান এবং সিডিইউর দুর্বল ফলাফল সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপরও নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে সিডিইউ ৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় দলটির জন্য ফলাফলটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে নির্বাচনী ফলাফলের পর মের্জ সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জার্মানির অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার জন্য এসব পরিবর্তন প্রয়োজন।

এদিকে চলতি বছরের রাজ্য নির্বাচনগুলো জার্মান রাজনীতিতে এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবও স্পষ্ট করেছে। দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টে দলটি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিল। সর্বশেষ মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নেও প্রথম হয়েছে দলটি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং এএফডির উত্থান মোকাবিলা—দুটি বিষয়ই বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...