আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গভীর সংকটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, পদত্যাগের জোরালো দাবি

আমার দেশ অনলাইন

গভীর সংকটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, পদত্যাগের জোরালো দাবি

যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনীতিক লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে তীব্র রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার। এরই মধ্যে গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি আলোচনায় আসে বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের ও সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে লর্ড ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন স্টারমার। যদিও গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, বিতর্ক থামেনি। পরবর্তীতে ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনাস সারোয়ার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, লেবার সরকার অনেক ইতিবাচক কাজ করলেও চলমান এই বিতর্ক সেগুলোকে আড়াল করে দিচ্ছে। তার মতে, বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ডাউনিং স্ট্রিটে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন।

এই সংকটের মধ্যেই সোমবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগপ্রধান টিম অ্যালান। এর এক দিন আগে রোববার পদত্যাগ করেন চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি। ধারণা করা হচ্ছে, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল পরামর্শ দেওয়ার দায় স্বীকার করেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, চাপ সত্ত্বেও স্টারমারের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি যে জনকল্যাণের জন্য কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে, তা প্রমাণ করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পরে দলীয় এমপিদের সঙ্গেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান।

যদিও লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে, মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন স্টারমার। চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশী অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি সরকার পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের দাবি উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্তের পর তাকে দেওয়া সরকারি অর্থসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যালোচনা করছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...