স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের প্রাণহানি

স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের প্রাণহানি
স্পেনের আলিকান্তে প্রদেশের এলস পোবলেতসে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যার পর এক নারী কর্দমাক্ত রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

স্পেনের পূর্বাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের কয়েকটি শহর। ২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির ছাদে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অ্যাডাম’ ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে পড়েছে। সড়কগুলো পরিণত হয়েছে পানির স্রোতে। পরিস্থিতি দেখে দুই বছর আগের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফিরে এসেছে। ওই বন্যায় ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ২৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এবারের ঝড়ে নিহত চারজনের মধ্যে দুজন উপকূলীয় পর্যটন শহর অলিভার বাসিন্দা। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে সাগুন্তোর একটি সৈকতে। চতুর্থ ব্যক্তি কাতালোনিয়ায় পানিতে ফুলে ওঠা একটি স্রোতস্বিনীতে পড়ে মারা যান।

সোমবার সকালে প্রায় ৮ লাখ বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকেলের দিকে ৮টি পৌরসভার ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য এ নির্দেশ বহাল রাখা হয়।

সরকারের প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে জানান, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী চার শতাধিক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাড়ির ছাদে আটকে পড়া লোকজনকে তারের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ঝড়টি বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ও কাতালোনিয়া অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। এর জেরে সোমবার প্রায় ১০০ পৌরসভার বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দুপুরের দিকে বেশির ভাগ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক সরকার।

‘এ এক বিপর্যয়’

আলিকান্তে শহরের উত্তর-পূর্বে এলস পবলেটস এলাকায় বন্যার প্রবল স্রোতে গাড়ি ও ভ্যান একটির ওপর আরেকটি উঠে গেছে। বাসিন্দারা ঘরবাড়ি থেকে যতটুকু সম্ভব জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেস বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা এখন বিপর্যয়কর। আবারও কিছু মানুষ সবকিছু হারিয়েছেন। ২০০৭ সালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল।’

সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, ২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অলিভা এলাকার বাসিন্দা। সোমবার ভ্যালেন্সিয়া ও আলিকান্তে অঞ্চলে প্রায় ১০০ উদ্ধার অভিযানও চালানো হয়েছে।

পেগো শহরের মেয়র এনরিক মোল সোমবার আঞ্চলিক সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আপুন্ত রেডিওকে বলেন, কয়েকজন বাসিন্দা তখনো বাড়ির ছাদে আটকে ছিলেন। তাদের হেলিকপ্টারে উদ্ধারের অপেক্ষা চলছিল। শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

অলিভার উপমেয়র সালভাদর লোপিস রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে বলেন, জরুরি সেবাকর্মীরা পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেদের ঘরে আটকা পড়েছেন। তাদের অনেকের ঘরের ভেতরে কোমরপানি জমে গেছে।

এদিকে স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইমেট গত শুক্রবার জানিয়েছে, গত মাসে দেশটির মূল ভূখণ্ডে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সেপ্টেম্বর ছিল। এর আগে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টিও ছিল দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...