ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২৭ সদস্যদেশজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। অনলাইনের ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় এটি হতে পারে ইইউর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ব্রাসেলসে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দুই বিশেষজ্ঞের প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবে ধাপে ধাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের শুধুমাত্র বাবা-মা, অভিভাবক বা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সীমিত সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের জন্য এসব বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করা হবে।
ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বয়স-উপযোগী বিধিনিষেধ প্রয়োজন। প্রশ্নটি আর এই নয় যে শিশুরা অনলাইনে ঝুঁকির মুখে পড়ছে কি না; বরং তাদের জন্য কীভাবে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুসরণ করে গ্রীষ্মকাল শেষে ইউরোপীয় কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। আগামী সেপ্টেম্বরে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দিতে পারেন।
এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশুদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বা এমন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগ মূলত টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অনেক প্ল্যাটফর্মেই বয়সসীমা চালু রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


