ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ ঘিরে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, আম আদমি পার্টির (এএপি) দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাসহ ৭০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়ে আগে থেকেই যন্তর-মন্তর ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিক্ষোভের আগে এক ভিডিও বার্তায় এএপির দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি দাবি করেন, সমাবেশের জন্য এএপি ছয় দিন আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল। তবে পুলিশ জানায়, যন্তর-মন্তরে ওই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভে এএপির পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা রাইসিনা রোডে সংগঠনটির কার্যালয় থেকে যন্তর-মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সংগঠনটির সভাপতি উদয় ভানু চিবের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তারা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ঘেরাওয়েরও ঘোষণা দিয়েছিল।
চিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা। ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের ভেতরেই যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন দেশের মানুষের কাছে এর জবাব ও জবাবদিহি প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তরুণরা নীরব থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন বা তার বেশি মানুষ একসঙ্গে জড়ো হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে অনেক বিক্ষোভকারীকে বাসে করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিদের বাদরপুর এবং দিল্লির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরাসও রয়েছেন।
পরে জনপথ এলাকাও বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে কয়েক ডজন মানুষ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পুলিশ তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও যন্তর-মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি মেট্রোর বেশ কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। যন্তর-মন্তর, রাজীব চৌক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
একই ইস্যুতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


