ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্রের করা অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় সংবাদমাধ্যম মাকতুব মিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় জ্যেষ্ঠ মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের বৈঠক ও সরকারি দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন মৈত্র।
১৯ সেপ্টেম্বর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এতে অভিযুক্ত হিসেবে ‘Unknown1’ ( অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির) নাম উল্লেখ করা হয়েছে; এবং মাকতুবের কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদকের নাম নির্দিষ্ট করা হয়নি।
মামলাটি মাকতুবের এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত দুটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই বিষয়বস্তুকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে এবং ‘এক্স’-কে পাঠানো একটি চিঠিতে একে “সম্পূর্ণ বানোয়াট” ও “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেছে।
এফআইআরে বলা হয়েছে, পোস্টগুলোতে এমন আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছিল, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং মানহানির মতো অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। তবে এগুলো পুলিশের অভিযোগ; আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ মাকতুবের @MaktoobMedia এক্স অ্যাকাউন্টের ২০২৬ সালের ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট খোলা, লগইন ও ব্যবহৃত ডিভাইস-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। ওই সময়সীমা এফআইআর দায়ের এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঘটনাগুলোরও আগের। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মাকতুব।
এদিকে একই বিষয়ে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি গ্রাফিকের ক্যারোসেল পোস্ট ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতে সরিয়ে দেয় মেটা। আইটি বিধিমালার আওতায় আইনি নোটিশের পর পোস্টটি সরানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মহুয়া মৈত্র ১ সেপ্টেম্বর প্রথম অভিযোগ করেন, অমিত শাহের জুলাই ও আগস্টের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রটোকল-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখা হয়েছিল।
পরে এ বিষয়ে মৈত্র জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হন। ২১ সেপ্টেম্বর কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে। তিনি জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।
এর আগে মূল অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার ঘটনায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও একটি এফআইআর করা হয়েছিল। পুরো বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি বা প্রমাণিত হয়নি।
সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট, মুসলিম মিরর
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


-46f0b9-720x405.webp)
