কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় মুখোশধারী কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত টিভি মেকানিক গোলাম হায়দার (৫৮) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে হামলার শিকার হওয়ার পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত গোলাম হায়দার ভেড়ামারা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাম হায়দার প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভেড়ামারা পৌরসভার দক্ষিণ রেলগেট বোর্ড স্কুলের সামনে টিভি মেরামতের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর তিনি দোকান খুলতে যান। দোকানের শাটার খোলার সময় পেছন থেকে ৩-৪ জন মুখোশধারী ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের হাতে হাতুড়ি, রামদা, হাতকুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড ছিল। তারা গোলাম হায়দারের মাথায় ৭-৮টি আঘাত করে। এতে তার ডান পায়ের নিচের অংশও ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গোলাম হায়দারের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে পলাশ বলেন, আমার বাবাকে ৩-৪ জন মুখোশধারী পেছন থেকে হামলা করেছে। তারা হাতুড়ি, রামদা, হাতকুড়াল, জিআই পাইপ ও লোহার রড ব্যবহার করেছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই। লাশের ময়নাতদন্ত রোববার হওয়ার কথা রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে।
ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার মুখোশধারী কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত গোলাম হায়দার ঢাকায় মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় থানায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

