ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ

ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ
বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ। আমার দেশ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নানা অশালীনতা ও অশ্লীলতায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজের ঐতিহ্য। হারাচ্ছে পবিত্রতাও ।

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের স্থাপত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক। হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এ স্থাপনা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু সেই পবিত্র ও ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণেই এখন দেখা মিলছে ভিন্ন এক অশালীন চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার আশায় কেউ কেউ ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে টিকটক, রিলস ও নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করছেন। কোথাও উচ্চ শব্দে গান, কোথাও অশোভন অঙ্গভঙ্গি, ধর্মীয় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মর্যাদার সঙ্গে যা অনেক ক্ষেত্রেই অসংগতিপূর্ণ। এটির ঐতিহ্য দিনদিনই ধ্বংসের পথে । এটি রক্ষণাবেক্ষণে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না । বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে ভিডিও তৈরি করে। কিন্তু সব স্থান যে বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরির উপযুক্ত নয়, সেই বোধটি অনেকের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ষাটগম্বুজ মসজিদে আসা কিছু দর্শনার্থী স্থাপনাটির ধর্মীয় গুরুত্ব ও পবিত্রতার বিষয়টি বিবেচনা না করেই ভিডিও ধারণ করেন। অশালীন অঙ্গভঙ্গি কিংবা উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে ভিডিও তৈরির মতো কর্মকাণ্ড শুধু দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশই ব্যাহত করে না, বরং দেশের একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সচেতন মহলের মতে, ষাটগম্বুজ মসজিদের পরিবেশ ও পবিত্রতা রক্ষায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি । মসজিদ চত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের জন্য দৃশ্যমান ও স্পষ্ট আচরণবিধি স্থাপন, অশালীন ভিডিও, উচ্চ শব্দে গান ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, প্রবেশপথে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক নির্দেশনা থাকতে হবে। ষাটগম্বুজ মসজিদকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা বিপুল।

এ বিষয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, মসজিদ এলাকায় অনেক সময় দর্শনার্থীরা গোপনে টিকটক, ছবি, রিলসসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি করেন। কখনো কখনো সেখানে অশালীন অঙ্গভঙ্গিও দেখা যায়। এসব বিষয় নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

ষাটগম্বুজ বায়তুশ শরীফ আদর্শ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও ধর্মীয় নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আসলাম হোসেন বলেন, ষাটগম্বুজ আমাদের বাগেরহাটের গৌরব। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি অশালিনতাও ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদের মতো ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানে দর্শনার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে যারা এখানে আসবেন, তাদেরও স্থানটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন