বিশ্লেষণ

দিল্লির বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে মোদির কর্তৃত্ব

দিল্লির বিক্ষোভে চ্যালেঞ্জের মুখে মোদির কর্তৃত্ব
ফাইল ছবি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপক উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অভিজিৎ দীপক বলেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে আপাতত সংসদ ভবন অভিমুখে নতুন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। খবর আলজাজিরা ও এনডিটিভির।

এর আগে সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে তৈরি করা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয় দিল্লি পুলিশ। একই দিন সংসদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি আহত হন।

এদিকে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। এদিন দলটির নেতারা প্রথমে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে হেঁটে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময় কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এ সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

কর্মসূচির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গেছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই দিন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাও আরএমএল ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিহত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, বিচার চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়ে সরকার তরুণ সমাজের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘তরুণবিরোধী’ প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বিরোধী দলের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা এনেছে। যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ বাড়াবে। অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্যত।এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, পুলিশি বর্বরতায় আপনারা আহত হয়েছেন। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি। অভিজিৎ লেখেন, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধান, যিনি ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করল। আপনাদের সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন