ভারতে বিষাক্ত ক্যাপসুল দিয়ে মানুষ হত্যার পরিকল্পনাকে ‘মহৎ কাজ’ দাবি প্রেমজির

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ভারতে বিষাক্ত ক্যাপসুল দিয়ে মানুষ হত্যার পরিকল্পনাকে ‘মহৎ কাজ’ দাবি প্রেমজির

ভারতের মুম্বাইয়ে মহররমের আশুরার শোভাযাত্রায় ব্যথানাশক ও রোগপ্রতিরোধক ওষুধের নামে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডকে ‘মহৎ কাজ’ বলে প্রচার করে অন্যদেরও ক্যাপসুল বিতরণে যুক্ত করেছিলেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় আশুরার শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণের সময় তাকে আটক করে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ক্যাপসুলগুলোতে ছিল জিঙ্ক ফসফাইড, যা সাধারণভাবে ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে পরিচিত। তবে সেগুলোকে ব্যথানাশক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ বলে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল।

পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে, ফাইয়াজ প্রেমজি প্রায় ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি বিষ সংগ্রহ করেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে পুনে থেকে মুম্বাইয়ে এসে ডোংরির একটি হোটেল সান ডরমিটরিতে অবস্থান নেন প্রেমজি। সেখানেই তিনি বিষাক্ত ক্যাপসুল প্রস্তুত করেন। তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা জনসমাগমে বিতরণের পরিকল্পনা ছিল।

একাই এত বিপুলসংখ্যক ক্যাপসুল বিতরণ সম্ভব না হওয়ায় তিনি কয়েকজনের সহযোগিতা নেন। সূত্রের দাবি, তিনি বিষয়টিকে ‘সওয়াবের কাজ’ বা ‘মহৎ উদ্যোগ’ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের ক্যাপসুল বিতরণে রাজি করান।

এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সালমান সাইয়্যেদ জানান, তিনি এক নারীর কাছ থেকে ক্যাপসুলটি পেয়েছিলেন, যিনি নিজের সন্তানদেরও তা খাইয়েছিলেন। অপর ভুক্তভোগী আলি আব্বাস সাইয়্যেদের দাবি, তাকে বলা হয়েছিল এটি একটি ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।

পুরো ষড়যন্ত্রটি ভেস্তে যায় তিনজন নারী স্বেচ্ছাসেবীর তৎপরতায়। তারা ক্যাপসুল বিতরণে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশকে খবর দেন। পরে একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে থাকা গুঁড়াজাতীয় পদার্থ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ক্যাপসুল সেবন না করার অনুরোধ জানানো হয়। পরে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে পুলিশ ফাইয়াজ প্রেমজিকে তার হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুনের বিমান নগরের কোনার্ক নগর এলাকায় বেড়ে ওঠা প্রেমজির বাবা একটি রং তৈরির কারখানার মালিক। তার মা ও বোন বর্তমানে ইরানে বসবাস করেন। জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি ১৯ বার ইরান ও ইরাক সফর করেছেন এবং গত বছর সেখানে এক থেকে দুই মাস কাজও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দাম্পত্য জীবন ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই প্রেমজির মানসিক ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে পুলিশ তার মানসিক অবস্থা ছাড়াও এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

এ ঘটনায় বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় (বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে অপরাধ) মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন