ফেব্রুয়ারিতে ‘বিহুর’ সময় স্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল জুবিন নাথের। ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ দুপুরে আসামের চিরাং জেলায় তার প্রতিবেশীর বাড়িতে একটি ফোন আসে। জুবিনের মা সেই ফোন ধরলে তাকে জানানো হয়, ২৬ বছর বয়সি জুবিন বেঙ্গালুরুর একটি টাইলস নির্মাণ কারখানায় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, যেখানে তিনি কাজ করতেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ইনকে জুবিনের বাবা অনন্ত নাথ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, ছেলে কারখানার এক মেশিনে পড়ে সঙ্গে সঙ্গেই মারা গেছে।’
ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হওয়ায় অনন্ত নাথ তার ছেলের নম্বরে ফোন করলে তা রিসিভ করেন একজন অসমিয়া ঠিকাদার। তিনি অনন্ত নাথকে বলেন, তার ছেলে মেশিনের নিচে শুয়ে তেল দেওয়ার সময় একজন মেশিনটি চালু করে দেয়। এতে জুবিনের শরীর মেশিনে আটকে দুই টুকরো হয়ে যায়।
পরের দিন ঠিকাদারের সহায়তায় জুবিনের মরদেহ আসামের বাড়িতে আনা হয়। জুবিন নাথ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কাজ করতেন। জুবিনের পরিবারে তার বাবা-মা, স্ত্রী ও এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু আসামজুড়ে প্রায় শোকের ভূকম্পন ধরিয়ে দিলেও জুবিন নাথের মৃত্যু যেন অগোচরেই থেকে গেছে।
জুবিন নাথ একা নন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক বিবৃতি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজের জন্য রাজ্যের বাইরে যাওয়া আসামের মোট ১৬২ জন শ্রমিক মারা গেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতিটি উদ্বেগজনক।
বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেন, আসামে বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকলেও অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুব কমই গুরুত্ব পেয়েছে।
আসামের কাছাড় জেলার কাটিগড়া এলাকার বাসিন্দা ইকবাল আহমেদ স্ক্রল ইনকে বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেঘালয়ের এক কয়লাখনির বিস্ফোরণে আমার তিন চাচাতো ভাই মারা যান। সাম্প্রতিক বছরে কাটিগড়া এলাকার প্রায় ২৫-৩০ জন অভিবাসী শ্রমিক মেঘালয়ের অবৈধ খনিতে মারা গেছেন। আহমেদ আরো বলেন, বেঁচে থাকতে চাইলে মৃত্যুর কথা ভুলে যেতে হয়।
আসামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই একজন ছেলে বাইরে কাজ করে। বেঙ্গালুরুতে জুবিন নাথ মাসে ৩০–৩৫ হাজার রুপি আয় করতেন। কোভিডের পর কাজের অভাবে আবার ফিরে যান। গ্রামে কাজ নেই, হাতির আক্রমণ, অনিয়মিত বর্ষা ও পানির সংকটে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত, তাই মানুষ কাজের খোঁজে বাইরে যাচ্ছে।
রাজ্যের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেতে বাধ্য হওয়া অনেকেই আদিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পাবন সরংয়ের কথাই ধরা যাক। ডিমাসা উপজাতির এই ৩৪ বছর বয়সি ব্যক্তি প্রথমে দিল্লিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন, পরে চেন্নাইয়ে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন।
গত সেপ্টেম্বরে আসামের কারবি আংলং ও হোজাই জেলার ৯ জন আদিবাসী অভিবাসী শ্রমিক ছিলেন, যারা চেন্নাইয়ে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুর্ঘটনায় মারা যান।
ছেলের ভাগ্য মেনে নিয়ে নবীন সরং বলেন, ‘এটাই নিয়তি। আমরা কাউকে দোষ দিতে পারি না।’
অভিবাসী শ্রমিকদের বহির্গমন বিজেপির উন্নয়ন দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিরোধীরা বলছে, রাজ্যে প্রকৃত কর্মসংস্থান নেই। বিশেষজ্ঞরা সরকারের ব্যর্থতা ও শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরছেন। গ্রামীণ মানুষ স্থায়ী কাজ ও অভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যাচ্ছে, কেননা সরকারি প্রকল্পগুলো তাদের জীবনমান পরিবর্তনে ব্যর্থ হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে ‘বিহুর’ সময় স্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল জুবিন নাথের। ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখে দুপুরে আসামের চিরাং জেলায় তার প্রতিবেশীর বাড়িতে একটি ফোন আসে। জুবিনের মা সেই ফোনটি ধরলে তাকে জানানো হয়, ২৬ বছর বয়সি জুবিন বেঙ্গালুরুর একটি টাইলস নির্মাণ কারখানায় দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, যেখানে তিনি কাজ করতেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ইনকে জুবিনের বাবা অনন্ত নাথ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, ছেলে কারখানার এক মেশিনে পড়ে সঙ্গে সঙ্গেই মারা গেছে।’
ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হওয়ায় অনন্ত নাথ তার ছেলের নম্বরে ফোন করলে তা রিসিভ করেন একজন অসমিয়া ঠিকাদার। তিনি অনন্ত নাথকে বলেন, তার ছেলে মেশিনের নিচে শুয়ে তেল দেওয়ার সময় একজন মেশিনটি চালু করে দেয়। এতে জুবিনের শরীর মেশিনে আটকে দুই টুকরো হয়ে যায়।
পরের দিন ঠিকাদারের সহায়তায় জুবিনের মরদেহ আসামের বাড়িতে আনা হয়। জুবিন নাথ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কাজ করতেন। জুবিনের পরিবারে তার বাবা-মা, স্ত্রী ও এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু আসামজুড়ে প্রায় শোকের ভূকম্পন ধরিয়ে দিলেও জুবিন নাথের মৃত্যু যেন অগোচরেই থেকে গেছে।
জুবিন নাথ একা নন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক বিবৃতি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজের জন্য রাজ্যের বাইরে যাওয়া আসামের মোট ১৬২ জন শ্রমিক মারা গেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, পরিস্থিতিটি উদ্বেগজনক।
বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়ক অখিল গগৈ বলেন, আসামে বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকলেও অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুব কমই গুরুত্ব পেয়েছে।
আসামের কাছাড় জেলার কাটিগড়া এলাকার বাসিন্দা ইকবাল আহমেদ স্ক্রল ইনকে বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেঘালয়ের এক কয়লাখনির বিস্ফোরণে আমার তিন চাচাতো ভাই মারা যান। সাম্প্রতিক বছরে কাটিগড়া এলাকার প্রায় ২৫-৩০ জন অভিবাসী শ্রমিক মেঘালয়ের অবৈধ খনিতে মারা গেছেন। আহমেদ আরো বলেন, বেঁচে থাকতে চাইলে মৃত্যুর কথা ভুলে যেতে হয়।
আসামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই একজন ছেলে বাইরে কাজ করে। বেঙ্গালুরুতে জুবিন নাথ মাসে ৩০–৩৫ হাজার রুপি আয় করতেন। কোভিডের পর কাজের অভাবে আবার ফিরে যান। গ্রামে কাজ নেই, হাতির আক্রমণ, অনিয়মিত বর্ষা ও পানির সংকটে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত, তাই মানুষ কাজের খোঁজে বাইরে যাচ্ছে।
রাজ্যের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেতে বাধ্য হওয়া অনেকেই আদিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পাবন সরংয়ের কথাই ধরা যাক। ডিমাসা উপজাতির এই ৩৪ বছর বয়সি ব্যক্তি প্রথমে দিল্লিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন, পরে চেন্নাইয়ে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন।
গত সেপ্টেম্বরে আসামের কারবি আংলং ও হোজাই জেলার ৯ জন আদিবাসী অভিবাসী শ্রমিক ছিলেন, যারা চেন্নাইয়ে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুর্ঘটনায় মারা যান।
ছেলের ভাগ্য মেনে নিয়ে নবীন সরং বলেন, ‘এটাই নিয়তি। আমরা কাউকে দোষ দিতে পারি না।’
অভিবাসী শ্রমিকদের বহির্গমন বিজেপির উন্নয়ন দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিরোধীরা বলছে, রাজ্যে প্রকৃত কর্মসংস্থান নেই। বিশেষজ্ঞরা সরকারের ব্যর্থতা ও শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরছেন। গ্রামীণ মানুষ স্থায়ী কাজ ও অভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যাচ্ছে, কেননা সরকারি প্রকল্পগুলো তাদের জীবনমান পরিবর্তনে ব্যর্থ হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরান আগ্রাসনে অসন্তোষের মুখে যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা