ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ছাড়িয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংগঠনটি।
ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। সংগঠনটি জানায়, তাদের ‘CPJ_2029’ নামের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টটির একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে বলেন, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে।”
এরপর ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় দীপক তার ১ কোটিরও বেশি অনুসারীকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ভুল লিখিনি। আমরা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছি, কারণ একজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। আমরা শুধু জবাবদিহিতা চাই। এটা কেমন গণতন্ত্র?”
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সর্বভারতীয় প্রি-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই সিজেপি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল।
উচ্চচাপের এই ভর্তি পরীক্ষাটি আগামী জুনে পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার জেরে অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
এর আগে অভিজিৎ দীপক অভিযোগ করেছিলেন, সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।
ভারতে এমন একটি আইনি কাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে। এসব নির্দেশ আইনত বাধ্যতামূলক হলেও সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


