ভারত থেকে কথিত বাংলাদেশিদের ফেরা নিয়ে কী ঘটছে সীমান্তে?

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ভারত থেকে কথিত বাংলাদেশিদের ফেরা নিয়ে কী ঘটছে সীমান্তে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকশ কথিত বাংলাদেশিকে জড়ো করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দাবি করা হচ্ছে, এরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশ করে সেখানে বসবাস ও কাজ করছিলেন এবং এখন তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্যমতে, উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বাংলাদেশি পরিচয়ধারী বহু মানুষকে দেখা যাচ্ছে। তাদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় হোল্ডিং সেন্টার বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ইতোমধ্যে কিছু মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসন এসব দাবির সত্যতা অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর কিংবা জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাকিমপুরে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের পরিত্যক্ত ঘর বা নির্ধারিত স্থানে রাখা হচ্ছে। পরে একে একে তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাচাই করা হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য তথ্য, সংগ্রহ করা হচ্ছে ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য। এরপর তাদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যাচাই শেষে এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও এ বিষয়ে ভারতীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। পরে তাদের স্বরূপনগর এলাকার হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, ভারত অংশে নানা তৎপরতার খবর পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি।

সাতক্ষীরা সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, হাকিমপুরে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর তারা শুনেছেন, তবে শত শত মানুষের বাংলাদেশে প্রবেশের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। একই কথা জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারত থেকে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বিজিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যশোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গাসহ অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভারত থেকে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা জোর করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঝিনাইদহ সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় দুই নারীকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পুশ-ইনের চেষ্টা হলেও তাদের সদস্যরা তা প্রতিহত করেছেন। বিশেষ করে গত ২৬ মে সর্বশেষ এমন একটি চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর নতুন করে কোনো সফল পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হলে সেটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। তাই গোপনে শত শত মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তারা আরো বলছেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...