ইন্দোনেশিয়ায় বন ও পিটল্যান্ডে আগুন লাগানোর অভিযোগে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুনে ব্যাপক ধোঁয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেই ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইরহামনি জানান, বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের নয়টি প্রদেশে বন ও ভূমিতে আগুন লাগানোর ৮৯টি ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কম খরচে জমি পরিষ্কার করে চাষ বা বাগান তৈরির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে, এসব আগুন লাগানোর পেছনে কোনো কোম্পানি অর্থায়ন করেছে কি না। ইরহামনি বলেন, শুধু মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; আগুন লাগিয়ে কারা লাভবান হয়েছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সেটিও খুঁজে বের করা হবে। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় রোববার বোর্নিও দ্বীপে ৩ হাজার ৭০০টির বেশি আগুনের হটস্পট শনাক্ত করেছে। দক্ষিণ সুমাত্রায় শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৭০০টির বেশি হটস্পট। কিছু এলাকায় ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে মাত্র ১০ মিটারে নেমে এসেছে।
দীর্ঘ খরা ও এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বিশেষ করে পিটল্যান্ডে আগুন নেভানোর পরও মাটির নিচে আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে যাওয়ায় পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া কালিমান্তানে কৃত্রিম বৃষ্টির কার্যক্রম শুরু করেছে। আগুন নেভানো ও আকাশপথে নজরদারির জন্য ৩০টি হেলিকপ্টার কালিমান্তান এবং আরও ২২টি হেলিকপ্টার সুমাত্রায় মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে আগুনের ধোঁয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক অঞ্চল। সেখানে একটি এলাকায় বায়ুর মান ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ এবং আরও আটটি এলাকায় ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে প্রায় ৬০০টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এতে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এআরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


