ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ভোর ৫টার দিকে একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। প্রশাসনের এই তৎপরতাকে ‘তাড়াহুড়ো’ ও ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতির’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ভোর ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে থাকা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজবাদী পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য চন্দ্রশেখর আজাদ বলেন, মসজিদটি ভেঙে ফেলার আগে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ ছিল।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, আপাতত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরপরও কেন ভোর ৫টায় তড়িঘড়ি করে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ ও সমর্থকদের তুষ্ট করার নীতির আরেকটি উদাহরণ। তিনি বলেন, এই ‘অন্যায়’ মানুষ মনে রাখবে।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা কি মুসলিমদের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়? ওয়াইসির অভিযোগ, ‘দুর্বল ভিত্তিতে’ মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে একের পর এক বুলডোজার চালানো হচ্ছে।
বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান ও সাবেক উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও সাহারানপুরের মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশজুড়ে মসজিদকে দ্রুত অবৈধ ঘোষণা করে সেগুলো ভেঙে ফেলার যে সরকারি তৎপরতা চলছে, তা ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, সাহারানপুরে মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় সেখানে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কাইরানার সংসদ সদস্য ইকরা হাসান। তিনি দাবি করেন, সাহারানপুর যাওয়ার পথে বাধা দিতে আগের রাতেই তার কাইরানার বাসভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।
ইকরা হাসান বলেন, গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কথা বলার জন্য নির্বাচিত হন। তাদের থামিয়ে দিয়ে জনগণের সেই কণ্ঠস্বরকে দমন করা যায় না।
সাহারানপুরের মসজিদটি কেন ভোরে এবং এত দ্রুত ভেঙে ফেলা হলো, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


