আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দিল্লি সম্মেলনে এআই নীতিতে যৌথ অবস্থান ঘোষণা বিশ্বনেতাদের

আমার দেশ অনলাইন

দিল্লি সম্মেলনে এআই নীতিতে যৌথ অবস্থান ঘোষণা বিশ্বনেতাদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে শুক্রবার যৌথ অবস্থান ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বিশ্বের ডজনখানেক রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রী। পাঁচ দিনব্যাপী প্রযুক্তি সম্মেলনের সমাপনী দিনে এ ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনের এক দিন আগে নয়াদিল্লির বৈঠকে স্যাম অল্টম্যান বলেন, দ্রুত বিকাশমান এই খাতে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ নিয়ন্ত্রণকাঠামো প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিটি যদি কোনো একটি কোম্পানি বা দেশের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতি কড়াকড়ি আরোপ করলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

জেনারেটিভ এআইয়ের বিস্তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ালেও সমাজ ও পরিবেশে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চাকরি হারানো, অনলাইন হয়রানি এবং ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ নামে আয়োজিত এই সম্মেলন এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজন। উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের এটিই প্রথম বড় সম্মেলন। এর মাধ্যমে ভারত মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তুলে ধরছে। আগামী দুই বছরে দেশটি এই খাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে। চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা নতুন চুক্তি ও অবকাঠামো প্রকল্প ঘোষণা করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, মানুষ ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করবে—এমন এক যুগে বিশ্ব প্রবেশ করছে। তার ভাষায়, এআই যেন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যেই অঙ্গীকার থাকতে হবে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এআই দক্ষতা বাড়ানো এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা সাশ্রয়ী করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠনে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ গুটি কয়েক দেশ বা বিলিয়নিয়ারের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

থিংক ট্যাংক দ্য ফিউচার সোসাইটির পরিচালক নিকি ইলিয়াদিসের মতে, শক্তিশালী প্রযুক্তির শাসন সাধারণত অভিন্ন সংজ্ঞা ও ঝুঁকির সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে শুরু হয়। তবে দিল্লির আলোচনার ব্যাপকতা এবং এর আগে ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলোর তুলনামূলক অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে এখনই কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন