বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ১৯ জুলাই। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সমস্যা শেষ হচ্ছে না ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর।
আমেরিকার হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমি রাস্কিন, ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন এবং নথি চেয়ে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন।
রোববার পাঠানো একটি চিঠিতে রাস্কিন ইনফান্তিনোকে ফিফার পক্ষ থেকে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দেওয়া যেকোনো উপহার, অর্থ প্রদান বা সুবিধাসংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও যোগাযোগের তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। এর সঙ্গে গত বছর ট্রাম্প টাওয়ারে অধিগ্রহণ করা ফিফার অফিস স্পেসের ভিজিটর লগ সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, তদন্ত কমিটি ইনফান্তিনোকে একটি অনুলিখিত সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকার অনুরোধও জানিয়েছে।
বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক কড়া নজরদারির মুখে পড়ে যায়। গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে নতুন তৈরি করা ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করে ফিফা। অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার কাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, গত বছরের জুলাইয়ে ফিফা মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে তাদের নতুন অফিস উদ্বোধন করে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এই নজরদারি আরও জোরদার হয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচের আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করতে ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে একাধিকবার ফোন করেন। ফিফা শেষ পর্যন্ত বালোগানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও এই রাজনৈতিক সার্কাস মার্কিন দলের ওপর একটি কালো ছায়া ফেলে, যা বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দল ও সংস্থাগুলোর তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর কানাডা ও মেক্সিকোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পও বিশ্বকাপের ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগ দেন। কাচঘেরা একটি বিলাসবহুল আসনে বসে একসঙ্গে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করা এই জুড়ি যখন মাঠে নামেন, তখন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাদের দুয়োধ্বনি দিতে থাকে।
রাস্কিনের চিঠিতে বিশ্ব ফুটবলে দুর্নীতি নিয়ে মার্কিন সরকারের তদন্তে অভিযুক্তদের ‘অভিযোগপত্র বাতিল’ করা বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ২০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ ফিফা কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস-মার্কেটিং নির্বাহীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইনফান্তিনোকে দেওয়া চিঠিতে রাস্কিন লিখেছেন, “ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনার নির্বাচন বিশ্ব ফুটবলের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী কয়েক দশকের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির সংস্কৃতিকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে ইতি টানবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তার বদলে, আপনার মেয়াদকালের শুরুতেই আপনি অধিকাংশ সদস্যকে বের করে দিয়ে ফিফার নৈতিক রক্ষাকবচ ভেঙে দিয়েছেন এবং সংস্থাটির এথিক্স কমিটিকে অকার্যকর করে দিয়েছেন। স্বচ্ছতা ও নজরদারির এই অভাব পরবর্তীতে এমন কিছু কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুগ্রহ লাভের পথ সহজ করে দিয়েছে, যাকে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আইনের অধ্যাপক এবং আপনার নীতিশাস্ত্র কমিটির সাবেক এক সদস্য ‘আইনি ঘুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

