ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এই অভিযানে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে।
বিজয়নের দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী (সিপিআইএম)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস শনিবার এক ভিডিওবার্তায় এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে ব্রিটাসের সঙ্গে বিজয়ন ও কেরালার সাবেক অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালকে দেখা যায়।
ব্রিটাসের দাবি, আটকের পর তাদের প্রথমে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রাখার পর পুলিশ জিপে তুলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হচ্ছে। তবে তাদের কোথায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় ব্রিটাস বলেন, পুলিশ তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। গন্তব্য সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। তার অভিযোগ, দিল্লিতে পুলিশ কার্যত পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২০ জুলাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এবারের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে পুলিশ। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ রাজধানীর ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, হজরত নিজামুদ্দিন ও নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন ২৫০টিরও বেশি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা এবং দিল্লির স্থানীয় রুটের ট্রেনও রয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য যন্তরমন্তরের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও আশপাশের এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির তিন শীর্ষ সংগঠক অভিজিৎ দ্বীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা রয়েছেন। এ ছাড়া দলের আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহ এবং ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


