তিন যুগেও সংস্কার হয়নি ‘কুয়েতপল্লী’

তিন যুগেও সংস্কার হয়নি ‘কুয়েতপল্লী’
বাগেরহাটের অবহেলিত কুয়েতপল্লী। ছবি: আমার দেশ

বাগেরহাটের রণবিজয়পুর এলাকায় অবস্থিত ‘কুয়েতপল্লী’ আবাসন প্রকল্পটি তিন দশক ধরে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গৃহহীন ও দুস্থ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত এই গুচ্ছগ্রামটি বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ. স ম মুস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে কুয়েত সরকারের অনুদানে প্রায় এক একর ৯০ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা হয় এই পল্লি। ‘কুয়েতপল্লী’ নামকরণ করে সেখানে ৪০টি পরিবারের বসবাসের জন্য আবাসন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি মসজিদ।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন সময়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এটি ছিল আশীর্বাদের মতো। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। কিন্তু ৩৪ বছরে আবাসনগুলোর তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘরগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পল্লির বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কুয়েতপল্লীর বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছি। এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়।’

ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই কুয়েত পল্লিটি সাবেক পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এর অবস্থা ভালো নয়। আমরা আমাদের জায়গা থেকে ইতোমধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তবে পল্লিটির আবাসন, মসজিদ ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভিন বীথি বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হলো এই উপজেলায় এসেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন