চরাঞ্চলের নিভৃত এলাকায় কষ্ট করে লেখাপড়া করে অদম্য মেধাবী হওয়া যায়Ñএমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চরবড়লই গ্রামের দিনমজুরের ছেলে জুয়েল রানা।
সে চরবড়লই গ্রামের দিনমজুর জাফর আলী ও মা গৃহিণী জরিনা বেগমের ছেলে। জুয়েল রানা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। জুয়েলের এই অর্জন চরবড়লই গ্রামসহ আশপাশের ওয়াব্দা বাজার এলাকার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এলাকাবাসী জুয়েলের কৃতিত্বে গর্ববোধ করছে। অনেকে জানালেন, নিভৃত চরাঞ্চলে জুয়েলের মতো মেধাবীরা চরাঞ্চলকে একদিন আলোকিত করবে।
জুয়েলের দাদি জাহেরা বেগম জানান, ‘আমার নাতি জুয়েল চরাঞ্চলে কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। আমার ছেলে জাফর আলী দিনমজুরি করে উপার্জন করা টাকায় জুয়েলকে লেখাপড়া করিয়েছে। জুয়েল তার বাবার কষ্টের টাকার মান রেখেছে।’
তিনি আরো জানান, ‘জুয়েল জিপিএ ৫ পেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে। জাহেরা বেগম আরো জানান, জুয়েল রানার জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। সরকার ও ভালো মনের মানুষরা জুয়েলকে সহযোগিতার হাত বাড়ালে সে একদিন এ অঞ্চলের মানুষের কষ্টের বাতি নিভিয়ে সুখের বাতি জ্বালাবে।
অদম্য জুয়েল রানা জানায়, ‘আমার বাবা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে আমাদের দুই ভাইকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। বড় ভাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আমি এবার বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছি।’
জুয়েল রানা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানায়, এইচএসসিতেও সে ভালো ফলাফল করে বুয়েটে লেখাপড়া করে প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক দৈনতায় সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারব কি না জানি না। তবে সরকারসহ সবার সহযোগিতা পেলে আমি বুয়েট প্রকৌশলী হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারব।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

