আস্থা ভোটে বিজয়ের জয়

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

আস্থা ভোটে বিজয়ের জয়
থালাপতি বিজয়। ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আস্থাভোটে জয়ী হয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় তারকা-রাজনীতিবিদ চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মাথায় বুধবার (১৩ মে) তিনি বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন। ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাতে তাকে বিভিন্ন ছোট দলের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই বাধা পেরিয়ে তিনি আরামদায়ক জয় পেলেন।

বিজ্ঞাপন

আস্থাভোটের নাটকীয়তা

আস্থাভোটের প্রক্রিয়াটি বেশ নাটকীয় ছিল। বিধানসভার ভেতরে হট্টগোল, বিরোধী শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ওয়াকআউটের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বিরোধীদল এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলটির একটি বিদ্রোহী অংশ সিনিয়র নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানির নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সমর্থন জানায়।

তাদের অভিযোগ ছিল, দলের সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর(ইপিএস) ডিএমকে-র সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। পালানিস্বামীর নেতৃত্বাধীন বাকি ৪৭ জন বিধায়ক বিজয়ের বিরোধিতা করলেও বিদ্রোহী ব্লকের ২৫ জন বিধায়ক সরকারকে সমর্থন দেন।

ডিএমকে-র ওয়াকআউট

আস্থাভোটে ডিএমকে বিধায়ক ও বিরোধী দলীয় নেতা এম কে স্ট্যালিন বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি এআইএডিএমকে-র একাংশের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া ভোটের আগে বিজয় কেন তার নির্বাচনী এলাকা ত্রিচি (পূর্ব) পরিদর্শনে যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্ট্যালিন।

তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ৬৫ শতাংশ মানুষ টিভিকে-কে ভোট দেয়নি। এরপর ডিএমকে বিধায়করা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

স্ট্যালিন বলেন, ‘আমরা ওয়াকআউট করছি। আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ হয়ে যাবে। তবে ডিএমকে সরকারের চালু করা কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে রাজনীতি না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

জ্যোতিষীর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

আস্থাভোটের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এমজেকে এবং ডিএমডিকে দলগুলোর আপত্তির মুখে বিজয় আস্থাভোট জয়ের পরপরই এই নিয়োগ বাতিল করেন।

আস্থাভোটের পর নিজের বক্তব্যে বিজয় সবাইকে নিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সরকার হবে ‘সাধারণ মানুষের সরকার’।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি এমন এক সরকার যা জাতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে। নির্বাচনে যারা ভোট দিয়েছেন আর যারা দেননি, তাদের মধ্যে কোনো বিভেদ করা হবে না। এই সরকার কোনো রাজনৈতিক কারণে কাউকে আঘাত করবে না।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন