আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাইপ্রাসে ‘ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার’ বিতর্কে ব্রিটিশ ঘাঁটি

আমার দেশ অনলাইন

সাইপ্রাসে ‘ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার’ বিতর্কে ব্রিটিশ ঘাঁটি
ছবি: সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক ইসরাইল-ইরান সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, বিশেষ করে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে “খোলামেলা আলোচনা” প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরএএফ আক্রোতিরি ও ঢেকেলিয়া ঘাঁটিকে “ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৬০ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার সময় এই ঘাঁটিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে শুর হওয়া ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিকে ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ঘটনায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, এই সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি সাইপ্রাসকে হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘাঁটিগুলো ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা আরো জানায়, জানুয়ারি থেকে সাইপ্রাসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেসকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেবে না।

যদিও যুদ্ধের শুরুতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরে স্টারমার হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন।

এর আগে এক টেলিফোন আলাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোডুলাইডসের সঙ্গে পুনরায় বলেন যে, সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটি অর্ন্তুভুক্ত থাকবে না।’

দুই নেতার মধ্যে আলোচনায় চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা একমত হয়েছেন যে পরিস্থিতি শান্ত করা বা উত্তেজনা হ্রাসই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন