কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৪০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে র্যাব-১৪-এর বিরুদ্ধে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল।
মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান পরিবহনের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি সন্দেহভাজন একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশিতে গাড়ির ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ১৬টি বস্তায় মোড়ানো মোট ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়।
জনবহুল একটি আঞ্চলিক সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে পরিচালিত এই মাদকবিরোধী অভিযান প্রাথমিক পর্যায়ে সফল মনে হলেও পরবর্তীতে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রহস্য ও পেশাদারিত্বের ঘাটতির প্রশ্ন সামনে চলে আসে।
অভিযানের মূল দৃশ্য যখন জনসমক্ষে উন্মোচিত হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তৈরি হয় চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শী ও দৈনিক কালের নতুন সমাজের কুলিয়ারচর প্রতিনিধি সবুজ মিয়া বলেন, র্যাবের অভিযান পরিচালনাকালে কুলিয়ারচরের সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত র্যাব-১৪-এর সদস্যরা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে কঠোরভাবে বাধা দেন। শুধু সংবাদকর্মীরাই নন, বরং সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ফোনও সাময়িকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়। প্রকাশ্যে একটি সফল মাদক অভিযানের দৃশ্য ধারণে এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার পেছনে কী ধরনের হীন উদ্দেশ্যে থাকতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পেছনের রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখা যায় র্যাব কর্তৃক এত বড় একটি মাদক আটকের ঘটনা ঘটার পরেও দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলিয়ারচর থানায় কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সংশ্লিষ্ট থানায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা বা এজহার দাখিল করার কথা থাকলেও, কেন করা হয়নি তা অত্যন্ত রহস্যজনক।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, মাদক আটকের মৌখিক বা দাপ্তরিক কোনো তথ্য তখনো থানায় এসে পৌঁছায়নি এবং অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদানের বিষয়ে র্যাবের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

