বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শনিবার লং মার্চের পরপর ফেসবুক লাইভে এসে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেন মেয়র। লং মার্চকে লং ড্রাইভ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, অনেক বেশি পরিমাণে তেল ও গ্যাস ব্যবহার করে তারা লং ড্রাইভ করেছে। এটা তাদের রাজিনৈতিক কর্মসূচী, তারা করতেই পারে। কিন্তু শফিকুর রহমান সাহেব আমাকে মেয়াদোর্ত্তীর্ণ মেয়র বলেছেন। অথচ আমি আদালতের রায়ে বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি শপথ নিয়েছি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হাসিনার ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছেন।
এর আগে শনিবার লালদিঘি ময়দানে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার যে স্বৈরাচার তার বড় উদাহরণ এই চট্টগ্রামেই রয়েছে। চট্টগ্রামের মেয়র মেয়াদর্ত্তীর্ণ মেয়র। শুনেছি তিনি নাকি যতদিন ইচ্ছে ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন। এটা কি প্রশাসন নাকি স্বৈরশাসন। সরকার সবগুলো সংস্থায় দলীয় লোক বসিয়েছে। অথচ তাদের ৩১ দফায় বলা আছে, দেশ পরিচালনা করবে শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তারা সেটারও ব্যত্যয় ঘটিয়েছে।
শনিবার রাতেই জামায়াত আমীরের এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করতে থাকেন নেটিজেনরা। রাত ১টায় নিজের আইডি থেকে ফেসবুকে লাইভ করেন বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করা চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এসময় তিনি বলেন, গত ১৬ বছর আমি ১১০টি মামলার আসামি। আমার করা মামলার রায়টি ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে। আমাকে পরাজিত করা হয়েছে বলেই আমি আদালতে মামলা করেছি। অথচ জামায়াত আমীর বলছেন, বর্তমান সরকার দ্বারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হচ্ছে। তার কথার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে, তিনি আওয়ামী লীগের মেয়রের সময়টাকে ফ্যাসিবাদী সময় বলতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার মামলার রায়ে বলা হয়েছে আমার মেয়াদ স্বাভাবিকভাবে শপথ গ্রহণের পর থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে আমিও নির্বাচন চাই। সবারই অধিকার রয়েছে নির্বাচন করার। আমিও নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। এই অবস্থার মধ্যে উনার এই বক্তব্যে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি মনে করি জামায়াত আমীর আওয়ামী লীগের সময়ে অবৈধভাবে একরতফাভাবে তাদের প্রার্থী রেজাউল করিমকে মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণাকে তিনি বৈধতা দিয়েছেন। এই কথার মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমকে অনেকটা সমর্থন করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

