এইচআইভি সংক্রমণে বগুড়ায় দেড় বছরে শনাক্ত ৯৩ জন, সাত বছরে মৃত্যু ৯

এইচআইভি সংক্রমণে বগুড়ায় দেড় বছরে শনাক্ত ৯৩ জন, সাত বছরে মৃত্যু ৯
প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

সাত বছরে ৯ মৃত্যু

গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

সচেতনতায় গুরুত্ব

চিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন