ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে

ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাস্তুচ্যুতির হার দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতিও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইওএমের সর্বশেষ হিসাবে, ২ লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এ সংখ্যা ৩৩ হাজার ৭০০-এর বেশি পরিবারের সমান। বাস্তুচ্যুতদের প্রায় সবাই ১ সেপ্টেম্বরের পর বাড়িঘর ছেড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬ হাজার। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের ১০টি প্রদেশে বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাইজ প্রদেশ। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় ৫৭ শতাংশই এই প্রদেশের। এরপর রয়েছে লাহজ, এডেন, আবিয়ান ও হোদেইদাহ।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, মানুষ জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না। তাদের এখনই আশ্রয়, খাবার ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ে সংস্থার কর্মীরা কাজ করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে। তিনি দাতাদের দ্রুত অর্থসহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন আশ্রয়। ৩৫ শতাংশ মানুষ আশ্রয়কে তাদের প্রধান প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর ৩৩ শতাংশের প্রয়োজন খাবার, ২২ শতাংশের প্রয়োজন নগদ সহায়তা এবং ১০ শতাংশ মানুষ নিরাপত্তাকে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ সমুদ্রপথে ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। তাদের অনেকেই অতিরিক্ত ভিড় থাকা নৌকায় সামান্য খাবার ও পানি নিয়ে দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছে। জিবুতিতে পৌঁছানো মানুষের বড় অংশ নারী ও শিশু।

এদিকে খাদ্যসংকটও দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের তিনটি খাদ্যসংকটে রয়েছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো অনেক ক্ষেত্রে খাবার ও পানি ছাড়াই এডেন ও তাইজের আশপাশে পৌঁছাচ্ছে।

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অর্থের ঘাটতির কারণে ত্রাণের মজুতও দ্রুত কমে যাচ্ছে। জরুরি অর্থ না পেলে খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও কমে যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর সহিংসতা অনেকটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স ও গ্লোবাল ইস্যুজ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন