হারিয়ে যাওয়া দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন ছাত্রদল নেতা

হারিয়ে যাওয়া দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন ছাত্রদল নেতা

খুলনার তেরখাদা উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছরের রায়হান ও ৮ বছরের রাফিকে ঢাকার আগারগাঁও থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় রায়হান ও রাফি। সন্তানদের নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

পরে ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শিশু দুটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম শিপন।

শিশু দুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিককে জানানো হলে তিনি তেরখাদা থানায় যোগাযোগ করেন এবং শিশুদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের বাবাকে ঢাকায় এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রায়হান ও রাফিকে তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের বকাঝকা ও গালাগালে অভিমান করে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর তারিক তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বিষয়ে বাবা-মাকে পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা তারিক বলেন, “দুই শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করছি। একজন মানুষ হিসেবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। তাই তাদের উদ্ধার করে শুধু পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নয়, তারা কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল সেটিও বোঝার চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, “শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বকাঝকা ও কঠোর আচরণে অভিমান করেই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সন্তানকে শাসন করার প্রয়োজন আছে, তবে সেই শাসন যেন ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধকে ছাপিয়ে না যায়। বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহনশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে কোনো কষ্ট বা অভিমান হলে তারা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে।”

তারিক আরও বলেন, “শিশু দুটির নিরাপদে ফিরে আসাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। তারা এখন পরিবারের কাছে ফিরেছে- এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন