পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ—খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে গত ২০ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে বর্তমান দলীয় পরিষদ ভেঙে দিয়ে অবিলম্বে সরাসরি ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিষদ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক মত, সামাজিক শক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অনুপস্থিত। এমন একতরফা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব জেলা পরিষদগুলোর নিরপেক্ষতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র এবং জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এনসিপি মনে করে, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। পার্বত্য অঞ্চলের মতো বৈচিত্র্যময় ও সংবেদনশীল অঞ্চলে অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি জনমনে বৈষম্য ও অবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণয়নের পর ওই বছরই একবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যক্ষ ও নিয়মিত নির্বাচন না হয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকার মনোনীত বা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে অনির্বাচিত ও দলীয়ভাবে প্রভাবিত কোনো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান দেখতে চায় না উল্লেখ করে এনসিপি জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কেবল একটি সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হতে পারে, এটি নির্বাচিত প্রতিনিধির বিকল্প হতে পারে না।
অবিলম্বে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সরাসরি নির্বাচন আয়োজনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দলটি বলেছে, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


