আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মাথা নোয়াবে না ইরান

হাসান আদিল

কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মাথা নোয়াবে না ইরান
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরো কঠোর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ হুমকি দেন। এর আগে তিনি ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তার এ আহ্বানকে অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ কখনোই মাথা নোয়াবে না।Ñখবর বিবিসি, আলজাজিরা ও গার্ডিয়ানের

গতকাল শনিবার ছিল যুদ্ধের অষ্টম দিন। এদিনে ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে ইরানও। এর মধ্যে জমে উঠেছে কথার লড়াই।

বিজ্ঞাপন

ইরানে কঠোর হামলার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, ইরান তার মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আর তাদের দিকে গুলি চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবিরাম হামলার কারণেই এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইরানকে খুব কঠিনভাবে আঘাত করা হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।

এদিন ট্রাম্প আরো বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য আমরা একটি সেবা দিচ্ছি।

এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনী ‘অসাধারণ’ সাফল্য পাচ্ছে, তাদের সেনাবাহিনী শেষ, তাদের নৌবাহিনী শেষ, তাদের যোগাযোগব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের দুই স্তরের নেতৃত্ব শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা তৃতীয় স্তরের নেতৃত্ব দিয়ে চলছে। তাদের বিমান বাহিনী পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন।

ইরানের টেলিভিশনে গতকাল দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। এতে তিনি আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আর কোনো হামলা চালাবে না। তবে শর্ত

থাকে যে, ওই সব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ চালানো না হয়।

পেজেশকিয়ান দম্ভভরে বলেন, আমাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের যে স্বপ্ন তারা দেখছে, তা তারা পূরণ হতে দেখবে না, বরং সে স্বপ্ন নিয়েই তাদের কবরে যেতে হবে।

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরাইলের হামলা

গতকাল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরান ও ইসফাহানে বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘নতুন দফায় ব্যাপক আকারে’ বিমান হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের আকাশে বিশাল আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এ আগুন ও ধোঁয়া তেহরানের প্রধান এবং ব্যস্ততম মেহরাবাদ বিমানবন্দরের দিক থেকে উঠছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিমানবন্দরের কিছু অংশে হামলা হওয়ার খবর দিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানে ‘নতুন দফায় ব্যাপক বিমান হামলা’ শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।

এদিকে ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় দেশটির সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৪২টি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা শুক্রবার রাতে তেহরানে হামলা চালিয়ে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে অন্তত ছয় হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক ভবন বা ইউনিট, এক হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র, ৬৫টি বিদ্যালয় ও ১৩টি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাংকারে লাখ লাখ ইসরাইলি

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ হামলার জেরে সারারাত লাখ লাখ ইসরাইলিকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকারে) অবস্থান করতে হয়েছে।

ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে ইরান এমন কৌশল নিয়েছে, যাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরাইলি দীর্ঘ সময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য করা যায়।

দুবাই ও মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ

উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপি জানায়, দুবাইয়ে দুটি এবং মানামায় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মানামায় বিস্ফোরণের সময় সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শনিবার বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের জুফায়র ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের কেশমের একটি পানির প্ল্যান্টের ওপর হামলা চালানোর জবাবে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ওই মার্কিন হামলায় ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে তেলের ট্যাংকারে ইরানের হামলা

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে শনিবার সকালে ‘প্রিমা’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ এবং পরিস্থিতি অনিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ট্যাংকারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমরা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক কোনো জাহাজকে বাধা দেব না। তবে এর নিরাপত্তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজকে নিতে হবে।

ইরাকে ড্রোন হামলায় মার্কিন কোম্পানিতে আগুন

ইরাকের বসরায় বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর কর্মীদের একটি কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান হ্যালিবার্টন এবং কেবিআরের অফিস ও গুদামে আগুন লেগেছে। হামলার পর ওই কম্পাউন্ডের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ড্রোনটি সরাসরি মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এ রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি আরটিএক্স করপোরেশনের ‘এন/টিপিওয়াই–২’ রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, যদি ধ্বংসের বিষয়টি সত্যি হয়ে থাকে, তবে থাড রাডারের ওপর এই হামলা হবে ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ।

‘কুর্দিরা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে ধ্বংস করে দেওয়া হবে’

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা শনিবার সকালে ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দিদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদি এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘নিঃশেষ’ করাই এখন ইরানের লক্ষ্য

ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যে ইরান নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। ফলে ইসরাইলে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তেহরানের এ লাগাতার হামলাকে কৌশল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান কৌশল হলো ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব চাপে রাখা। অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমিয়ে ফেলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এর মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে এটিও দেখাতে চায়, এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান, জাহাজ ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলার পরও তাদের পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ফুরিয়ে যায়নি। তারা শুধু ইসরাইল নয়, পুরো অঞ্চলে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিলে ইউরোপীয় দেশগুলোও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি এই আগ্রাসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয়, তবে তারাও ইরানের পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি অপরাধ করার ক্ষেত্রে কোনো চরমসীমা বা রেডলাইন মানছে না। এ দুদেশ স্কুল, হাসপাতাল, বিনোদন ও ক্রীড়াকেন্দ্রসহ জনবহুল বেসামরিক এলাকা এবং অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।

ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ইরাভানি। তিনি বলেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্য অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে আন্তর্জাতিক নীতি, তার চরম লঙ্ঘন।

‘মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে ইরানকে তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থান কোথায়—এমন তথ্য দিয়ে তেহরানকে সহায়তা করছে মস্কো।

এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন—কে, কার সঙ্গে কথা বলছে সে বিষয়ে তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (ট্রাম্প) পুরোপুরি অবগত। প্রকাশ্যে বা গোপনে যা-ই ঘটুক না কেন, তার কড়া জবাব দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার ইসরাইলের কাছে ১৫ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের জরুরি অস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘হামলার তীব্রতা বাড়লেও ইরানে সরকারের পতন ঘটবে না’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল মনে করে যে, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা হলেও দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কাঠামো সহজে ভেঙে পড়বে না।

এ বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি নিশ্চিত করেন, এ মূল্যায়ন ট্রাম্পের পরিকল্পনার সাফল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কাঠামো ভেঙে নিজের পছন্দের একজন শাসক বসাতে চান।

হামলার মধ্যে লেবাননের অবস্থাও শোচনীয়। দেশটিতে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর নির্বিচার হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটিও। তাদের হামলায় গতকাল ইসরাইলের সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের যোদ্ধারা শনিবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের আইন জেইতিম ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তেল আবিবের হামলায় গতকাল লেবাননে অন্তত ৪৫ জন নিহত হন। এ পর্যন্ত দেশটিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৯৪ জন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...