ইবিতে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ইবিতে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস শহীদ মিয়াকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভাগের নিজস্ব কোনো শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগের দাবিতে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে মানববন্ধন করেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের নিচতলায় মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ভবনে তালা ঝুলিয়ে অনুষদ অচল করে দেন তারা।

এ সময় ‘দাবি মোদের একটাই, নিজ বিভাগের চেয়ারম্যান চাই’, ‘দফা এক, দাবি এক, ডিন স্যারের পদত্যাগ’, ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। তারা সবাই সহকারী অধ্যাপক। এর মধ্যে একজন শিক্ষক এর আগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আরেকজন শিক্ষকের সভাপতির মেয়াদ গতকাল (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, বিভাগের বাকি তিনজন শিক্ষক সভাপতি হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত।

এ ছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী, একটি বিভাগে কর্মরত সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোটেশন পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগে সভাপতি হওয়ার যোগ্য কোনো শিক্ষক না থাকলে বর্তমানে কর্মরত সভাপতিকে পুনরায় মেয়াদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান সভাপতি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ণালী বর্ণা বলেন, এখানে আসার একটাই উদ্দেশ্য, একটাই দাবি। আমাদের বিভাগে এত ক্যাপাবল শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরের বিভাগ থেকে চেয়ারম্যান হবেন? বাইরের বিভাগের কোনো শিক্ষককে আমরা আমাদের চেয়ারম্যান হিসেবে মানব না। আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এখানে বসেছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর না করে সুষ্ঠুভাবে আমরা এখানে অবস্থান করছি। রাজনৈতিক কোনো দিক থেকে আমরা এখানে নেই, আমরা শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছি। বিভাগের শিক্ষকরা এত বছর পরিশ্রম করে আমাদের বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে আসছেন। আমরা চাই, তাদের পরিশ্রম ও যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন হোক।

আরেক শিক্ষার্থী জাকির বলেন, আমাদের মার্কেটিং বিভাগের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্য আমরা মেনে নেব না। আমাদের বিভাগের যে যোগ্য শিক্ষক আছেন, তাদের মধ্য থেকেই আমরা যোগ্য চেয়ারম্যান দেখতে চাই। প্রশাসন নাকি আমাদের আলোচনায় ডাকছে। এখান থেকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যদি কোনো আলোচনা করতে হয়, তবে এখানেই আসতে হবে। আমরা পেছনে কোনো আলোচনা করব না। আমরা পেছনে আলোচনা করার ছাত্র নই, আমরা ২৪-এর আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্র।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনুষদ ভবনের গেটের তালা খুলতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন