ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনন্তকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনন্তকাল যুদ্ধ করার মতো অস্ত্রের মজুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে বিশেষজ্ঞদের এমন আলোচনার পরই এই পোস্ট দেন ট্রাম্প ।
অন্যদিকে গতকাল বুধবার যুদ্ধের পঞ্চম দিন পর্যন্ত ইসরাইল ও আমেরিকার হামলায় ইরানে এক হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গতকালের হামলায় নিহত হয়েছেন ছয়জন। লেবাননে ইসরাইলের হামলায় মারা গেছেন প্রায় ৫০ জন। এছাড়া ইরানের হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার নতুন করে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ক্ষেপনাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইরান আবারো সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে ইন্টারনেট ব্লাকআউট ১০০ ঘন্টা ছাড়িয়েছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে দেশটি। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।
ট্রাম্প কি অনন্তকাল ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান?
ট্রাম্পের অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে তিনি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি করবেন কিনা সেটি স্পষ্ট নয়। কারন এর আগে গত রোববার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, ইরানে সামরিক অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে গত সোমবার তিনি তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনার কথা বলেন। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধটি খুব বেশি দিন স্থায়ী না হলেই ভালো। এ সময় তিনি দাবি করেন, ‘আমরা সময়সূচির তুলনায় একটু এগিয়ে আছি’।
একই দিনের পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ যুদ্ধের সময়সীমার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে স্থলসেনা মোতায়েন নিয়ে তার কোনো দ্বিধা নেই, তবে তিনি মনে করেন, এ অভিযানে সম্ভবত স্থলসেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।
দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: খামেনির উপদেষ্টা
ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন উপদেষ্টা বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির আর আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা রাখে না। একই সঙ্গে তেহরান দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানান।
মোহাম্মদ মোখবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের আমেরিকানদের ওপর কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা চাইলে যতদিন খুশি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারব’।
ইসরাইলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের নতুন দফায় হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। গতকাল কয়েক ঘণ্টা ধরে ইসরাইলে সতর্ক সংকেত বাজিয়ে জানানো হয়, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।
সাইরেন বেজে ওঠে এবং মোবাইলে ইসরাইলি নাগরিকরা সতর্কবার্তা পায় যে, নিরাপদে আশ্রয় নিতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে।
সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরামকোর বৃহত্তম পরিশোধনাগার রয়েছে ওই স্থাপনায়। বুধবার সকালে এই ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হামলার বিষয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের দেশীয় চাহিদা পূরণ করা সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরায় একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ৩ মার্চ সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো।
ইরানের এখনও 'উল্লেখযোগ্য' ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে: ইসরাইল
কয়েক ডজন লঞ্চার ধ্বংস করার পরেও ইরানের কাছে এখনও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের 'উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা' রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন বলেন, আমরা ইসরাইলি ফ্রন্টের উল্লেখযোগ্য হুমকিস্বরূপ কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী ধ্বংস করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারীগুলো স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাব। তবে শাসকগোষ্ঠীর এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, যে আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্ভেদ্য নয়।
তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এদিকে ইরান থেকে তুরস্কের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আঙ্কারা। ওই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে সামরিক জোট ন্যাটো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা ধ্বংস করে। তবে ক্ষেপনাস্ত্রের টার্গেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমায় ধ্বংস করেছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি শনাক্ত করার পর অকেজো করে দেয়।
শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ডুবল ইরানি যুদ্ধজাহাজ, নিহত ৮০
এদিকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। টর্পেডো দিয়ে সাবমেরিনটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা জানান।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে একটি ইরানি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ডুবিয়ে দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, ওই ঘটনায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, যে যুদ্ধজাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিল।
এ সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের ওপর হামলা তার দেশ ও ইসরাইল কেবল শুরু করেছে; সামনে এ ধরনের আরো বড় আকারের হামলা আসছে।
পিট হেগসেথ বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশা করছে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ঘোষণা স্থগিত করেছে তেহরান। স্থানীয় সময় বুধবার রাত থেকে রাজধানী তেহরানে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা ছিলো। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা দেশটির সিনিয়র এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই কর্মকর্তা বিলম্বের জন্য সার্বিক ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। যার মধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের লোকদের অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুরোধও রয়েছে।
এর আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ ইসলামিক প্রচার পরিষদের প্রধান হোজ্জাতুল ইসলাম মাহমুদির বরাত দিয়ে জানান, বুধবার রাত ১০টা থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে খামেনির লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন তাদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সে জন্য বিশেষ এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে কখন এই অনুষ্ঠান হবে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার কুয়েত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঢেউয়ের মত একের পর এক আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলা ও প্রতিহত করছেন তারা।
আলোচনার টেবিলেই কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ট্রাম্প: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পক্ষগুলো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিংসার বশবর্তী হয়ে আলোচনার টেবিলেই কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে মি. আরাঘচি লেখেন, পারমাণবিক আলোচনার মতো জটিল বিষয়কে যখন কোনো রিয়েল এস্টেট ব্যবসার (জমি কেনাবেচা) মতো দেখা হয় এবং বড় বড় মিথ্যা যখন বাস্তবতাকে আড়াল করে ফেলে, তখন অবাস্তব প্রত্যাশাগুলো কখনোই পূরণ হয় না। এর
ফলাফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যারা তাকে নির্বাচিত করেছে সেই আমেরিকানদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রতারণা করেছেন।
খামেনির স্থলাভিষিক্ত সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, যিনিই ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হবেন তাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের এই সন্ত্রাসী সরকার যাকেই পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নিক না কেন, যদি তাদের লক্ষ্য হয় ইসরাইল ধ্বংস করা, যুক্তরাষ্ট্র বা মুক্ত বিশ্বকে হুমকি দেওয়া কিংবা ইরানের জনগণকে দমন করা, তবে সেই ব্যক্তি যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাকে নির্মূল করা হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের খবর শোনা গেলেও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির উত্তরসুরীর নাম ঘোষণা করেনি।
কাতারে ইউএস বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কাতারকে লক্ষ্য করে ইরান দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে এবং আরেকটি ইউএস বিমান ঘাঁটি আল উবেইদ থেকে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আল উবেইদ বিমান ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি।
দুবাইয়ের ইউএস কনস্যুলেট থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটি ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও মিত্রদের ওপর হামলা শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে দুবাইয়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট ভবনে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর পর সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এই সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে, কোন হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এই বিমানবন্দরের ভেতরে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন অবস্থিত।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ : আইআরজিসি
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ওই সমুদ্রপথে চলা ট্যাংকারগুলোর পাহারায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর পরই আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’থাকার কথা জানাল।
গতকাল বুধবার বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, এ মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের ফারস সংবাদমাধ্যম এ বিবৃতি প্রচার করেছে।
লেবাননে নতুন করে হামলা ইসরাইলের
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের দক্ষিণে আরও একটি হামলা শুরু করেছে। তারা সেনাদের লেবাননের আরও গভীরে ঠেলে দিচ্ছে। এই ঘোষণার পর, লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা দেশটির দক্ষিণের খিয়াম শহরে নতুন করে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর দিয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক্সে এক পোস্টে বলেন, লেবানন থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপনাস্ত্র উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া হয়েছে। লেবাননের একজন মন্ত্রী আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর ৬৫,০০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা তেল আবিব লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
ইরানে দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। একইসাথে ২০০৩ সালের ইরাক অভিযানের তুলনায় এই অভিযান প্রায় দ্বিগুন মাত্রার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জানিয়েছেন, তারা ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
ইউএস নেভির সিনিয়র এডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, বুধবার পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী অথবা ওমান সাগরের কোথাও একটাও ইরানি জাহাজ দেখা যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

