এবারের অমর একুশে বইমেলায় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রতিবাদী ধারার বইয়ের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ বেড়েছে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পেশাজীবীসহ সব বয়সি পাঠকই ভিড় করছেন এসব বইয়ের স্টলে।
ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা, সমকালীন রাজনীতি ও সমাজচেতনাÑসব মিলিয়ে প্রতিবাদী চেতনা ও আত্মমুখী বইয়ের চাহিদা বেশি। পাঠকদের ভাষায়, সময়কে বুঝতে ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে এসব বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গতকাল বুধবার ৮১টি নতুন বই বাজারে আসার খবর জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। গতকাল বইমেলা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা বেগম বদরুন নেসা গার্লস কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার সংগ্রহ করেছেন ‘ইসরায়েলের বন্দিনী’, ‘প্রিন্সেস অব উইঘুর’ ও ‘টাইগার অব ফিলিস্তিন’ বই। সেই সঙ্গে তিনি নিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির সবশেষ বই ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ ।
তিনি জানান, হাদির বইয়ের শব্দচয়ন ও বিষয়বস্তুর দৃঢ়তায় তিনি মুগ্ধ। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের স্টল খুঁজে পান বলে জানান তিনি।
মগবাজার থেকে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নুরে হাবিবা এসেছেন বইমেলায়। তিনিও কিনেছেন হাদির প্রতিবাদী কবিতার বই ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’। সেই সঙ্গে কিনেছেন তার নিজ গ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বই ‘পটুয়াখালী’। একই সঙ্গে তিনিও কিনেছেন ‘প্রিন্সেস অব উইঘুর’। এ সময় তিনি ব্যাগ থেকে বের করে দেখান ‘বাংলায় বাজে গির্জার বাঁশি’ বইটিও।
শহীদ হাদির সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আমার দেশকে বলেন, লেখকের সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে শুরু করার পর থেকেই তার লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেজন্যই প্রতিবাদী এ লেখকের কবিতার বই সংগ্রহ করেছি। আশাবাদীÑতার লড়াই অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানান, প্রতিবাদী লেখকদের বক্তব্য ও চিন্তাধারা তাকে আকৃষ্ট করে। সেজন্য তিনিও কিনেছেন প্রতিবাদী লেখক হাদির বই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী সোয়ায়েব হাসান দুই হাতভর্তি বই নিয়ে বের হচ্ছিলেন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে। এ সময় তিনি আত্মমূলক, রোমান্টিক ও প্রতিবাদী ধারার কয়েকটি বই কিনেছেন বলে আমার দেশকে জানান । তিনি বলেন, আমি ‘কাগজের বউ’, ‘একাকিনী’, ‘পদ্মজা’ ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়া’-সহ বেশ কয়েকটি বই সংগ্রহ করেছি। ব্যাগের ভেতর প্রতিবাদী কয়েকটি বইও রয়েছে। মূলত প্র্যাকটিস করার পাশাপাশি বই পড়তে প্রচুর পছন্দ করি। সেজন্যই এত বই কেনা।
পুরান ঢাকা থেকে আসা আফসার উদ্দিন তানভীর কিনেছেন ‘আয়না-চিরুনি’ ও ‘জুলাই স্মৃতি’। তার ভাষায়, স্মৃতিচারণধর্মী লেখাগুলো সময়কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। একই ভাবে মাসুদ আহমেদ সংগ্রহ করেছেন ম্যাগাজিন ‘ষোলো’।
পল্লবী থেকে আসা আশিকুর রহমানও কিনেছেন ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’। আশিক আমার দেশকে বলেন, প্রতিবাদী কবিতার বইটি একটি যুগান্তকারী বই। এ বই যুবকদের জন্য বড় ধরনের প্রেরণা হয়ে উঠবে।
সেগুনবাগিচা থেকে বই কিনতে আসা খুশনুমা আক্তার আমার দেশকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী কবিতা পড়ে ভালো লাগায় বই কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, কবিতা সব সময় ভালো লাগে, তবে কেনা হয় কম। এবার আর মিস করিনি।
সাভার থেকে নাবিল রহমান এসেছেন ছোট বোন মাওজাবিন রহমানকে নিয়ে। আট বছরের শিশু মাওজাবিন আমার দেশকে বলে, আমার বই পড়তে ভালো লাগে। আমি বই পড়ি। সেজন্য এলাম বই কিনতে। কী কী বই কিনেছÑজানতে চাইলে ছোটদের ছড়ার বই ও হাসির গল্প, হাসির দুপুর ব্যাগ থেকে বের করে দেখায় নাবিল। এছাড়া শিশু ম্যাগাজিনও কিনেছে তারা।
ছাত্রদলের দল দীপশাখা প্রকাশনার বিক্রয়কর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মেলায় এবার বিক্রি কম। তবে যতটুকু বিক্রি হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেল হয়েছে ‘জিয়াকে যেমন দেখেছি’ বইটি। বিশেষ ছাড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের ভাইরা যারা বই কিনে উপহার হিসেবে দিচ্ছেন, তাদের জন্য রয়েছে অর্ধেক মূল্যছাড় ।
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার স্টলের ইনচার্জ জিএ সাব্বির জানান, এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় দুই হাজার কপি ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ বিক্রি হয়েছে। আমরা আশাবাদী, এটিই হবে এবারের বেস্ট সেলার বই। আমাদের স্টলের অন্যান্য বইয়ের মধ্যে ‘জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও গাইল সমগ্র’ও ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হাদি ভাইয়ের উক্তি পেইন্ট করা টিশার্টও বিক্রি হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

