মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরান ও চীন একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্র এবং ছয়জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান চীনের ‹সিএম-৩০২› সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত করতে সক্ষম এবং অত্যন্ত নিচু ও দ্রুত গতিতে উড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে। সামরিক বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংজ্ঞা পাল্টে দিতে সক্ষম এবং মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর এই চুক্তির আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে। ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাই বেইজিং সফরে চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নেন। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে চীনের ইরানে হস্তান্তরিত সবচেয়ে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। ইরান আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কেনার বিষয়েও চীনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। ইরান সরকার এই চুক্তিকে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।
এই সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও সামরিক পদক্ষেপে সতর্ক হচ্ছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে ১২টি এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ জেট অবতরণ করে। এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো প্রধানত রাডার ফাঁকি দিয়ে আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ওয়াশিংটন ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ও সামরিক হুমকির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ “হাতের নাগালে।” আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, এই চুক্তি ও সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ইরান-ইসরাইলের ত্রিমুখী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

