ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে আল-আকসায় দেড় লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে আল-আকসায় দেড় লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়

অধিকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে কঠোর ইসরাইলি নিরাপত্তা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি। বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় পবিত্র এই স্থান।

বিজ্ঞাপন

জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, এদিন আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। তবে নামাজের সময়জুড়ে মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক ইসরাইলি সেনা মোতায়েন ছিল। বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি, বাধা এবং কয়েকজনকে আটক করার ঘটনাও ঘটে।

গত বছর ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পর এই প্রথম আল-আকসায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ঈদুল ফিতরের সময় মসজিদ বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ফলে সে সময় মুসল্লিদের মসজিদের বাইরের সড়ক ও খোলা স্থানে নামাজ আদায় করতে হয়েছিল।

ঈদের দিন ভোর থেকেই আল-আকসা ও পুরনো জেরুজালেম এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরাইলি বাহিনী। বাব আল-আসবাত বা ‘লায়ন্স গেট’ দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে জেরুজালেমের বাসিন্দা এবং ১৯৪৮ সালের সীমারেখার ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, মসজিদের ইসলামী পরিচয় রক্ষা ও সেখানে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি জোরদারের লক্ষ্যেই এ আহ্বান।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইলি উগ্রপন্থিরা নিয়মিত আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং মসজিদটি ভেঙে সেখানে ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের দাবি তোলে। এসব অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীর সহায়তা থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ঈদের দিন আল-আকসার একটি প্রবেশদ্বার বাব হুত্তার কাছে এক তরুণীকে মারধর করে হিজাব খুলে নেওয়ার পর আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া মসজিদের ভেতর থেকে সাংবাদিক সাইফ আল-কাওয়াসমিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং তাকে এক সপ্তাহের জন্য আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ওয়াকফের কর্মী ফিরাস আল-দিবসকেও আটক করা হয়।

অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা প্রাঙ্গণে। খুতবায় গাজাসহ ফিলিস্তিনিদের চলমান দুর্ভোগ ও সংকটের বিষয় উঠে আসে।

ঈদের দিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী অভিযান, বাড়ি তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে বানি নাঈম শহরে ইসরাইলি অভিযানের সময় রাবার বুলেটে আহত হয় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু। পরে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সূত্র: নিউ আরাব

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...