প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও ওমরাহ পালনের অজুহাতে বিদেশে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরছেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দুই কর্মকর্তা। মাত্র সাত দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর টানা চিকিৎসাজনিত ছুটি (মেডিকেল লিভ) ও বিনাবেতনে ছুটি কাটিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবাসেই অবস্থান করছেন তারা। ইতোমধ্যে তাদের বৈতনিক ও অবৈতনিক ছুটি মঞ্জুর বা হিসাবভুক্ত হলেও কর্মস্থলে যোগদানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, প্রবাসে থাকা এই দুই কর্মকর্তার একজন ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস) দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসান এবং অন্যজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃবিষয়ক দপ্তরের (ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন অ্যান্ড এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অফিস) ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও নোবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদারুল আলমের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী আবু জুবায়ের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসান ২০২৩ সালের ১৮ জুন ইতালির ‘ইউনিভার্সিটি অব ল'আকিলা’ (ইউনিভার্সিটি অব ল’আকিলা)-তে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টাফ ট্রেনিং উইক’-এ অংশ নিতে দেশ ছাড়েন। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি মেডিকেল লিভ গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩৪৪ দিন বেতনসহ (পেইড) এবং ৮৩০ দিন বিনাবেতনে (আনপেইড) ছুটি কাটিয়ে প্রবাসেই অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু জুবায়ের ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরবর্তীতে তিনি ওমরাহ পালনে যান এবং সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে মেডিকেল লিভ নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে তার ছুটির তালিকায় রয়েছে প্রায় ৪৯১ দিন বেতনসহ এবং ১২৯ দিন বিনাবেতনে ছুটি।
দিনের পর দিন এভাবে ছুটি বাড়িয়ে প্রবাসে অবস্থান করায় কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও ছুটি মঞ্জুরের নীতিমালা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেছে নোবিপ্রবি প্রশাসন। প্রেরিত নোটিশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু জুবায়ের বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি। বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা এবং আমার স্ত্রীর পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে থাকায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, যা আবেদনেও উল্লেখ করেছিলাম। অন্যদিকে সহকারী রেজিস্ট্রার কে. এম. মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার ভয়েস ও মেসেজ কলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজীদ হোসাইন চৌধুরী জানান, তাদের আগামী অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তাদের আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যদি এর মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করেন, তবে আইনানুগ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আর কোনো শিথিলতা বা বিবেচনা করা হবে না। সবাইকে নিয়মের মধ্যেই চলতে হবে, নিয়মের বাইরে কাজ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

