জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ওপর জর্ডানের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব অবশ্যই ‘সম্মান করতে হবে’ বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটি।
গত সপ্তাহে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল, আল-আকসা মসজিদের ওপর জর্ডানের রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ষড়যন্ত্র করছে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতাবস্থা চুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে সম্প্রতি স্বতন্ত্র বা স্বাধীন এমপি শওকত আদম ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মিডল ইস্ট আই-এর পক্ষ থেকে সেই চিঠির বিষয়টি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করা হলে এর জবাবে এক মুখপাত্র বলেন, ‘জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর অভিভাবক হিসেবে আমরা জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মূল্যায়ন করি। জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোতে ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার যে ব্যবস্থা রয়েছে তা অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’
মিডল ইস্ট আই-এর ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই প্রথম ব্রিটিশ সরকার জর্ডানের অভিভাবকত্বের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল।
যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের কর্মকর্তা এবং পশ্চিমা ও পারস্য উপসাগরীয় আরব অঞ্চলের সূত্রগুলো গত সপ্তাহে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাটির মূল পৃষ্ঠপোষক বা চ্যাম্পিয়ন হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার (যার প্রশাসনে কোনো দাপ্তরিক পদ নেই) এবং ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। এই পরিকল্পনার অধীনে জর্ডান সমর্থিত ‘ইসলামিক ওয়াকফ’-এর কর্তৃত্ব আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইল সরকার কর্তৃক গঠিত একটি নতুন সংস্থা আল-আকসা মসজিদকে একটি ‘বহু-ধর্মীয় কেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করবে।
সংবেদনশীল এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন ব্যবস্থা ইহুদিদের এই মুসলিম পবিত্র স্থানে সমান প্রবেশাধিকার প্রদান করবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বড় দলবদ্ধ হয়ে ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দেবে।
এছাড়াও ইমাম, খতিব ও মসজিদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসরাইলের একটি বড় ভূমিকা থাকবে এবং জুমার খুতবার বিষয়বস্তু বা উপাদান অনুমোদনের ক্ষেত্রেও তারা জড়িত থাকবে।
‘ক্ষোভ ও উদ্বেগ’
গত ২৯ মে পররাষ্ট্রসচিব ইভেত কুপারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে শওকত আদম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার অনেক বাসিন্দা আমার সাথে যোগাযোগ করে এই প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনি এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে আল-আকসা মসজিদ কেবল একটি উপাসনালয়ই নয়, বরং এটি তাদের পরিচয়, মর্যাদা এবং চলমান উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি প্রতীক।’
আদম কুপারের কাছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন যে সরকার এই প্রতিবেদনের বিষয়টি সরাসরি ইসরাইল এবং মার্কিন সরকারের কাছে তুলেছে কি-না।
তিনি আরো জিজ্ঞাসা করেন, সরকার আল-আকসার ওপর জর্ডানের অভিভাবকত্বের ভূমিকাকে সমর্থন করা অব্যাহত রাখবে কি-না।
আদম আরো জানতে চান, পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা পরিবর্তনের চেষ্টা থেকে আরো বেশি জাতিগত নিধন এবং অস্থিরতার ঝুঁকির বিষয়ে সরকার কী মূল্যায়ন করেছে।
সেই সাথে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘জর্ডানের স্বীকৃত অভিভাবকত্বের ভূমিকাকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার সরকার প্রকাশ্যে বিরোধিতা করবে কি-না।’
জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানগুলোর ওপর জর্ডানের অভিভাবকত্বকে মেনে নেওয়া বা স্বীকার করা যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক নীতি।
ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি ইসরাইল সরকারের প্রতি তাদের সমালোচনা আরো কঠোর করেছে, বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিস্তারের বিষয়ে।
মিডল ইস্ট আই গত বুধবার সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মন্ত্রীরা এখন অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


