জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ প্রস্তাবের ভোট স্থগিত

আমার দেশ অনলাইন

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ প্রস্তাবের ভোট স্থগিত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট স্থগিত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

১৫ সদস্যের এই পরিষদের শুক্রবার সকালে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে এএফপি জানায়, ‘গুড ফ্রাইডে’ উপলক্ষে জাতিসংঘে সরকারি ছুটি থাকায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে—যদিও ভোট ঘোষণার সময়ই বিষয়টি জানা ছিল।

খসড়া প্রস্তাবে ভোটের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

জাতিসংঘে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আলরোওয়াই এই সপ্তাহে বলেন, ‘আমাদের অঞ্চল ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে, এ ধরনের অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আমরা মেনে নিতে পারি না।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই প্রস্তাবটি ‘গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে’ এসেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে ‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করতে’ বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে না বলে জানান।

এএফপি-র দেখা সর্বশেষ ষষ্ঠ খসড়া অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এককভাবে বা ‘স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ-জোট’ গঠন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমায় প্রযোজ্য হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা যায় এবং প্রণালী বন্ধ বা বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টা প্রতিহত করা যায়।

প্রস্তাবটি অন্তত ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকার কথা।

রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সংশয় দূর করতে খসড়াটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে।

নতুন ভাষায় জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের সরাসরি উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

সংশোধিত প্রস্তাবে যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা ফ্রান্সের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি’

জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ বলেন, মার্চে ইরানের প্রণালি অবরোধের নিন্দা জানানো প্রস্তাব পাসের পর এখন ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ দ্রুত নির্ধারণ করা পরিষদের দায়িত্ব’।

তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগে বলেছেন, এই প্রণালি খুলতে সামরিক অভিযান ‘বাস্তবসম্মত নয়’।

রাশিয়া ও চীন—যাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে—এই প্রস্তাব সমর্থন করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, ‘শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া মানে অবৈধ ও নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।’

ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, সম্ভাব্য ভেটোর কারণে এই প্রস্তাবের পাস হওয়া ‘খুবই কঠিন’।

তিনি বলেন, ‘প্রণালির স্থিতিশীলতাকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখলে চলবে না; টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে এর প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল, এলএনজি ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন খুবই বিরল ঘটনা।

১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটকে ইরাকে সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপের অনুমোদনও এ পরিষদ দিয়েছিল।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...