পুনরায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় দ্রুত শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রোববার দুপুর ১টায় ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’-এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন। তিনি বলেন, ‘কেউ একজন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব।” আমরাও প্রশাসনকে বলতে চাই—শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে কারা হাইকোর্টে গিয়েছিল, কারা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছিল এবং কারা শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচনে সহযোগিতা করবে না বলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল, তা পুরো বাংলাদেশ দেখেছে। বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরাই শাকসু নির্বাচন বানচালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে রিয়াজ রিমন বলেন, ‘শাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার। শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন হবে, প্রশাসনকে নির্বাচন দিতেই হবে। আমরা শাকসু নিয়েই ঘরে ফিরব। নির্বাচন না দিলে কীভাবে শাকসু আদায় করতে হয়, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো করেই জানে।’
মানববন্ধনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান বলেন, ‘শাকসু স্থগিত হওয়ার পর প্রশাসন বলেছিল, চার সপ্তাহ পর শাকসু নির্বাচন হতে কোনো বাধা থাকবে না। কিন্তু প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন—এখনো কি সেই চার সপ্তাহ হয়নি?’
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন এবং নির্বাচিত সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তাদের কাছে কি গণতন্ত্রের অর্থ শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন? একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে সেই দেশের শিক্ষার্থীদেরও তো গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে সব জায়গাতেই এর চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা এক ধরনের মুনাফিকি।’
আবরার বিন সেলিম বলেন, ‘৯০-এর পর বিএনপি আর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে দেয়নি। তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের “হত্যাকারী”। যদি তারা সেই “ছাত্র সংসদ হত্যাকারী” তকমা বহন করতে না চায় এবং সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের স্বীকার করতে হবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।’
মানববন্ধনে স্বতন্ত্র প্যানেলের ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক শাকিল বলেন, ‘নির্বাচনের একদিন আগে রিটের মাধ্যমে তা নির্বাচন বন্ধ করার মতো এমন নোংরামির নজির আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। আমি এখনো শাকসুর সময়ে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অন্যায় কেন করা হলো?’
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুন। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত শাকসু নির্বাচন দিন।’
ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন বানচালে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে, তাদের জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসন শাকসু চায় না। কারণ শাকসু প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। শিক্ষকদের স্বৈরাচারী মনোভাব, অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তারা হারাবে। এ কারণেই প্রশাসন শাকসু নির্বাচন দিতে চায় না।’
ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘আশা করেছিলাম নতুন যে প্রশাসন এসেছে, তারা শিক্ষার্থীদের পালস বুঝবেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নে তারা তাদের ন্যূনতম কর্তব্য—শাকসু নির্বাচন দেওয়া—পালন করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন “নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন”, “দায়িত্ব বুঝে পাই নাই”—এরকম নানা কথা বলে নাটক মঞ্চায়ন করছেন।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবন প্রমুখ।
কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। তারা বলেন, ‘শাকসু পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। আজ মানববন্ধন করলাম। আগামীকাল দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করব। যদি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত শাকসু নির্বাচন আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

