ইরানের পরমাণু শক্তি অক্ষত আছে, বলছেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইরানের পরমাণু শক্তি অক্ষত আছে, বলছেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা
প্রতীকী ছবি

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এমন দাবি মেনে নেয়নি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

গতকাল শনিবার ইসরাইলি পত্রিকা ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের যুদ্ধের পর ইরানের পরমাণু খাত ধ্বংস হওয়ার পক্ষে গোয়েন্দাদের সই চেয়েছিল নেতানিয়াহুর কার্যালয়। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চাপ প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর সরকার ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলি গোয়েন্দারা জানান, ইরানের পরমাণু স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

পত্রিকাটি লিখেছে, ‘ওই দাবির পেছনে একটি ছোট সমস্যা ছিল। সেটি হলো, তথ্যটি সত্য ছিল না।’

গোয়েন্দাদের আপত্তি

পত্রিকাটি জানায়, স্যাটেলাইট ও ড্রোনের ছবি এবং গোপন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর কার্যালয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিতে থাকে।

তখন একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার ঊর্ধ্বতনকে বলেন, ‘আমি এই নথিতে স্বাক্ষর করতে পারব না।’

তিনি যুক্তি দেন, ক্ষয়ক্ষতির পুরো তথ্য তাদের কাছে নেই। প্রমাণ ছাড়া এই দাবিতে সই করলে তাদের নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হবে।

বিজ্ঞানীদের অস্বীকৃতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরাও এই দাবির বিরোধিতা করেন। কমিশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোশে এদ্রি জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানীদের কাছে খসড়াটি পাঠালে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

বিজ্ঞানীরা একে ‘গুরুতর বিকৃত’ খসড়া বলে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞানীরা ফোরদো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি চিরতরে অকেজো হয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বহু বছর পিছিয়ে যাওয়ার দাবিগুলো মানতে চাননি। পরে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা নথি তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, মার্কিন হামলায় ফোরদোর বড় ক্ষতি হয়েছে এবং পরমাণু কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে। তবে কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ হওয়ার কোনো দাবি করা হয়নি।

চূড়ান্ত নথিতে বলা হয়, ইরান যেন তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ পরমাণু উপাদান ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইসরাইলি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের কাছে এখনও প্রায় ৪৪০ কেজি পারমাণবিক জ্বালানি রয়েছে। এটি দিয়ে প্রায় ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। তাই তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি শেষ—এমন দাবি করা অসম্ভব ছিল।

ওয়াশিংটনকে সমর্থনের চেষ্টা

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পেন্টাগন। নিউ ইয়র্ক টাইমস এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। হোয়াইট হাউস যখন পেন্টাগনের সেই মূল্যায়ন খণ্ডন করার চেষ্টা করছিল, তখনই নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়। ইসরাইলি সরকার আশা করেছিল, তাদের বিশেষজ্ঞরা সমর্থন দিলে ওয়াশিংটনের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: দ্য প্যালেস্টাইন ক্রনিকল

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...