বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের তারকা ফুলব্যাক সিডনি লোপেস ক্যাব্রালের করা দৃষ্টিনন্দন গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্বাচিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।
তুর্কি ক্লাব ট্র্যাবজনস্পোরে খেলা ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার গত ৪ জুলাই মিয়ামিতে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এক স্মৃতি উপহার দেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে চতুর ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে দূরপাল্লার এক বাঁকানো শটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের চোখ ফাঁকি দেন। তার এই চোখধাঁধানো গোলেই ম্যাচটি ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছিল।
উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোরের আকর্ষণীয় গোলকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেন ক্যাব্রাল। এর মাধ্যমে তিনি ম্যাক্সি রদ্রিগেজ (২০০৬), দিয়েগো ফোরলান (২০১০), হামেস রদ্রিগেস (২০১৪), বেঞ্জামিন পাভার্ড (২০১৮) এবং রিচার্লিসনের (২০২২) মতো তালিকায় নিজের নাম লিখলেন।
ঐতিহাসিক এই গোলের স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্লুত ক্যাব্রাল বলেন, 'যখন আমি প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে সামনে বাড়লাম, ফাঁকা জায়গা দেখে ভেবেছিলাম—একটা চেষ্টা চালিয়ে দেখা যাক। দুই পায়েই আমি ভালো শট নিতে পারি। ওপরের কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া শটটি ঠিকঠাক লেগেছিল। বল জালের দিকে যেতে দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সবাই অবাক হয়ে মাথায় হাত দিয়ে চিৎকার করছিল।'
ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে কাবো ভার্দে বিদায় নিলেও মিয়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব পরিবেশ। গোল করার পর ক্যাব্রাল গ্যালারির দিকে দৌড়ে যান, যেখানে আবেগের আতিশয্যে তার মা তেরেসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ক্যাব্রাল জানান, ম্যাচের আগেই তিনি মা ও বান্ধবীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গোল করলে তাদের দিকেই দৌড়ে যাবেন।
ক্যাব্রালের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স কেবল ফুটবল বিশ্বের প্রশংসাই কুড়ায়নি, এনে দিয়েছে তাঁর শৈশবের আইডল, ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি মার্সেলোর প্রশংসাও। ম্যাচের পর মার্সেলো নিজে ক্যাব্রালকে বার্তা পাঠিয়ে অভিনন্দন জানান এবং প্রকাশ করেন যে তিনি নিজেই এই গোলটির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

