আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার করা হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এতদিন অর্থনীতিকে মূল ইস্যু করে এগোলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের কৌশলে পরিবর্তন আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘যিশুর মতো’ উপস্থাপন এবং পোপের ওপর তার আক্রমণের পর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা যাচাইয়ে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এটি অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) ছাড়াই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি প্রক্রিয়া।
উইসকনসিনের প্রতিনিধি মার্ক পোকান বলেন, ‘ট্রাম্প যা বলছেন, মানুষ তা বিশ্বাস করতে পারছে না। ফলে তাকে সরানোর এই উদ্যোগ জনমতেরই প্রতিফলন।’
তবে দলের অন্য একটি পক্ষ সতর্ক করে বলছে, ট্রাম্পকে সরানোর পেছনে অতিরিক্ত সময় দিলে দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো জনবান্ধব ইস্যুগুলো ঢাকা পড়ে যেতে পারে। তাদের মতে, প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসন করেও ট্রাম্পকে রোখা যায়নি, উল্টো তিনি ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এবারও একই পথে হাঁটলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার পেছনে ট্রাম্পের দায় রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হেনরি কুয়েলার বলেন, ‘আমাদের উচিত ডিস্ট্রিক্টের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা। যেমন-জিনিসপত্রের দাম কমানো। ইমপিচমেন্ট নিয়ে বারবার ভোট দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা জানি সিনেটে কী ঘটবে।’
অন্যদিকে, তরুণ ও বামপন্থি ভোটারদের টানতে দলের অনেক প্রবীণ সদস্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি তুলছেন। ৭৭ বছর বয়সী প্রতিনিধি জন লারসন গত ৬ এপ্রিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৩টি অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিপাবলিকানরা অবশ্য ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। রিপাবলিকান কৌশলবিদরা মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা যত বেশি ট্রাম্পকে নিয়ে পড়ে থাকবে, সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা যাবে ট্রাম্প অর্থনীতি নিয়ে ভাবছেন আর ডেমোক্র্যাটরা ব্যস্ত কেবল ট্রাম্পকে নিয়ে।
২০২৫ সালের শুরু থেকে বিশেষ নির্বাচনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো করলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ‘ট্রাম্প হটাও’ বার্তা কতটুকু সুফল দেবে, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

